বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে কড়াকড়ি, অর্ধেকে নামল ২৭৮ প্রতিষ্ঠানের কোটা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৪ পিএম  আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ৬:১২ পিএম  (ভিজিট : ৫২)
X

দেশের বাজারে চালের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানির মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে আরোপ করা হয়েছে কঠোর শর্ত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংশোধিত কোটা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং এ অনুমোদনের মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

সরকার বলছে, সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বজায় রেখেই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে বেশি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মিলে রপ্তানি করেছে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন। রপ্তানির পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের মূল্য সুরক্ষায় ন্যূনতম রপ্তানিমূল্যও নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের ন্যূনতম এফওবি মূল্য হবে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার।

এতে কম দামে অতিরিক্ত চাল রপ্তানির সুযোগ সীমিত করার পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে রপ্তানিকারকদের জবাবদিহির আওতাও বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন করে রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের বরাদ্দের বিপরীতে কত পরিমাণ চাল বাস্তবে রপ্তানি হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।

প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি আয় দেশে ফেরত এসেছে—এর প্রমাণ হিসেবে রপ্তানিকারকদের পিআরসি দাখিল করতে হবে।

সরকারের নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানি অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে তা হস্তান্তর করতে পারবে না। সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের মাধ্যমেও রপ্তানি করা যাবে না। রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের পাশাপাশি সরকারের আরোপ করা অন্যান্য শর্তও মানতে হবে রপ্তানিকারকদের।

জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই দেওয়া অনুমোদন বাতিল করার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, সুগন্ধি চাল থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিই অগ্রাধিকার পাবে। সেই লক্ষ্যেই কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়ানো হয়েছে।


আ.দৈ/এসআর


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝