এলডিসি উত্তরণে সরকার বেশ কিছু প্যারামিটার নির্ধারণ করেছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে যেসব পরিবর্তন আনা হবে, সেগুলোর প্রতিটিতেই ব্যবসায়ী মহলের পরামর্শ প্রয়োজন হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই এসব পরিবর্তন আনতে চায়। এলডিসি গ্রাজুয়েশনকে সামনে রেখে আগামী তিন বছরে বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু প্যারামিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসব কাজের জন্য কী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও কতটা বিস্তৃতভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। কোম্পানি আইন সংশোধন সেই বিপুলসংখ্যক কাজের মধ্যে একটি উপাদান মাত্র।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’-এর খসড়া সংশোধনী সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) নিজ কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভাটি আয়োজন করে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণে সরকার বেশ কিছু প্যারামিটার নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ১৯৯৪ সালের পর কোম্পানি আইনে মাত্র দুটি ছোটখাটো সংস্কার হয়েছে। এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনটিকে যুগোপযোগী করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম ও পদ্ধতি সহজ করতে বিশ্বের যেসব দেশে আইন ও বিধিবিধান ভালোভাবে কার্যকর হচ্ছে, সেসব দেশের উদাহরণ নেয়া যেতে পারে। অন্যান্য দেশে সংশ্লিষ্ট আইন কীভাবে কাজ করছে, তা পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খসড়া সংশোধনী নিয়ে মতামত দেয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের যত সময় প্রয়োজন, তা দেয়া হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি খাত। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা দরকার। ব্যবসায়ীরা ৩০ দিন সময় চেয়েছেন। প্রয়োজন হলে আরো বেশি সময় নেয়া যেতে পারে।
তবে দিন শেষে ভালো প্রস্তাব নিয়ে আসা দরকার। আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যান্য দেশে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা তুলনা করে দেখতে হবে। এরপর ব্যবসায়ীদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এমন একটি কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করা হবে, যা ব্যবসার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে।
তিনি আরো বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বড় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, উদ্বৃত্ত রাজস্ব কিংবা বড় বাজেট বরাদ্দের মতো পর্যাপ্ত সম্পদ পায়নি। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাও প্রতিদিন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এটি আমাদের সবার জন্য রূপান্তরকালীন সময়। মাথা ঠান্ডা রেখে ভালো পরিকল্পনা নিয়ে এ সময়টা পার হতে হবে। বাস্তবভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করতে হবে।
বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেসব পরিবর্তন আনা হবে, সেগুলোর প্রতিটিতেই ব্যবসায়ী মহলের পরামর্শ প্রয়োজন হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই এসব পরিবর্তন আনতে চায়।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আ.দৈ/আরএস




















