রাজধানী, তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি, অফিস, দুদক,৩ কোটি টাকার জমি দেড় কোটিতে রেজিস্ট্রি
রাজধানীর তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ লেনদেন, ভিটে জমিকে নাল, আবাদি জমি উল্লেখ করা,জমির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্য নির্ধারণ করে জমি রেজিস্ট্রিশন করা হয়। সেই আরো অভিযোগ সরকারি নির্ধারিত ট্যাক্স, ভূমিকর, ভ্যাট ছাড়াও জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে ওেয়া হয়। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ শেষ নেই। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে রাজধানীর তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযান চালানোর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি আরো জানান,অভিযানে আবাসিক বা ভিটে শ্রেণির মূল্যবান জমিকে নালজমি হিসেবে রেজিস্ট্রি করে কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়ার একটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক। এছাড়া বেশকিছু অনিয়ম দেখতে পেয়েছে সংস্থাটি।
অভিযানে অংশ নেওয়া দুদকের সহকারী পরিচালক আল আমিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিত এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগ ছিল চুক্তি বা বায়না দলিলে জমির মূল্য ৩ কোটি টাকার বেশি উল্লেখ করা হলেও চূড়ান্ত রেজিস্ট্রি করার সময় তা কমিয়ে মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার কাছাকাছি দেখানো হয়।
পাশাপাশি ভিটে জমিকে নাল জমি হিসেবে শ্রেণি পরিবর্তন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অভিযানে বায়না দলিল ও চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন দলিলের মূল্যে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে এসে সাধারণ গ্রাহকের মতো তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে পর্যবেক্ষণ করেছে আমাদের টিম। সেখানে যারা ঘোরাফেরা করেন বা সেবা দেন—নকলনবিশ, দলিল লেখক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী—কারও গায়ে নির্ধারিত পোশাক বা ঝুলন্ত আইডি কার্ড দেখা যায়নি। তারা সাধারণ পোশাকে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনগড়া হারে অতিরিক্ত টাকা বা রেট হাঁকাচ্ছেন।
কার্যালয়ে সিটিজেন চার্টার টাঙানো থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযানকালে দুদক টিম সংশ্লিষ্ট জমির দলিল ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র জব্দ ও সংগ্রহ করেছে। এগুলো আরও গভীরে যাচাই-বাছাই করে অতি দ্রুত দুদক কমিশন বরাবর বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
আরও জানা গেছে, রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সে হিসাবে দৈনিক আদায় করা ঘুসের অঙ্ক কমপক্ষে ২০-২৫ লাখ টাকা। ঘুসের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয় দালাল, পিয়ন, অফিস সহকারী, মোহরার, এক্সট্রা মোহরার বা নকলনবিশদের মধ্যে। ভুয়া নামজারিসহ প্রয়োজনীয় আরও কিছু জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ারও অভিযোগ ছিল।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিত আকারে পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দালালের বিষয়েও অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আ. দৈ./ একে




















