বিচারব্যবস্থায় এআইয়ের প্রভাব মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এআইয়ের অপব্যবহার থেকে বিচারব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে বিচারকদের প্রযুক্তিটি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজ্ঞা ও বিচারিক বিচক্ষণতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ এআই গভর্ন্যান্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল, ছবি পরিবর্তন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও এ প্রযুক্তি প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এআইয়ের ঝুঁকি ও অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো বিচারককে এআইয়ের মাধ্যমে প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হলে তার প্রভাব বিচারিক সিদ্ধান্তেও পড়তে পারে। তাই সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের সময় কোনো উপাদান এআইনির্ভর কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি জানান, এআই নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং এর ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে সময়োপযোগী এবং গ্রহণযোগ্য আইন তৈরি করা সম্ভব। এআই বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তুত করে দ্রুত সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ একরামুল হকসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আ.দৈ/আরএস




















