শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফাহিমের ঢাকার বাসায় দুদকের নোটি ঝুলবে
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও প্রভাবশালী নেতা শেখ সেলিমের ছেলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী চেয়ে পাঠানো নোটিশটি ঢাকার বাসায় ঝুলিয়ে রাখবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কারণ ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার আন্দোলনের পর থেকে পলাতক রয়েছেন শেখ ফাহিম। ফলে তার বাসায় এ নোটি পাঠােনো কেউ না থাকায় দুদকের চিটি এরআগেও গ্রহণ করা হয়নি। মামলার তদন্তের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ নোটির বাসার দরজায় ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
শেখ ফাহিমের বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি ফাহিমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পদের হিসাব চেয়েছিল দুদক। তখন এই ব্যবসায়ী নেতার ঢাকার বাসায় নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে গত ৪ মার্চ মামলা হয়। ওইদিন তিনি, তার ছেলে ফাহিমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস জারির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ ফাহিম বিদেশে চলে গেছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
দকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে শেখ ফাহিমের নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়ার তথ্য দেন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। এমন পরিস্থিতিতে ফজলে ফাহিমের নামে বা বেনামে আরও সম্পদ আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে দুদক আইনে মঙ্গলবার সম্পদ বিবরণী চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফাহিম ছাড়াও তার মা ফাতেমা সেলিম, ভাই শেখ ফজলে নাঈম এবং বোন শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার কাছেও সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
ফাতেমা সেলিমের নামে আয় বর্হিভূত ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়ার দাবি করেছে দুদক। শেখ ফজলে নাঈমের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকা। শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি সম্পদ পাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
শেখ সেলিমের পরিবারের এই চার সদস্যের ক্ষেত্রে দুদকের প্রাথমিক হিসাবে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তাদের নামে বা বেনামে আরও সম্পদ আছে কি না, তা যাচাই করতে সম্পদ বিবরণী চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
শেখ সেলিম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও সাড়ে ১৩ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
এদিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপিসহ আরও ৩ জনের কাছেও সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
ফারহানা রহমানের নামে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পাওয়ার কথা বলেছে কমিশন। এছাড়া ঘিওরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জনির নামে ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পাওয়ার দাবি করেছে দুদক।
অন্যদিকে যুবলীগ নেতা আবুল বাশারের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৮৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৯ টাকার ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’ পাওয়ার কথা বলেছে কমিশন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ বালু ব্যবসা, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে তিনি ওই অর্থ অর্জন করেছেন।
দুর্জয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুদকের একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। ১ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯০ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখা এবং ২২টি ব্যাংক হিসাবে ৯৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর মামলাটি হয়।
আ. দৈ./একে




















