রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, ব্যবসা সহজ করতে নতুন কাঠামো
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম   (ভিজিট : ৩৮)
X

দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। ‘ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা নতুন আদেশটি ২০২৬ সাল থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নতুন নীতিতে পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, আমদানির শর্ত, প্রয়োজনীয় সনদপত্র, পণ্যের উৎপত্তি দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিধি অনুসরণের বিষয়গুলো আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকদের জন্য বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্টতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা আগাম পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এলসি ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ

নতুন আমদানি নীতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে পণ্য আমদানির অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থায়। এখন ঋণপত্র বা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। আগের ২০২১–২০২৪ সালের আমদানি নীতিতেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন নীতিতে সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য এ পরিবর্তন আমদানি প্রক্রিয়ায় নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বাড়ল মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ

মোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রেও নতুন নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে। এর আগে ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। ফলে নতুন নীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলো।

ফ্রি ট্রেড জোন ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ

নতুন আমদানি নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পথ সহজ হবে।

বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নেওয়ার সুযোগ

এফটিএ, সেপা ও ইপিএসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও নতুন নীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা গ্রহণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পণ্যের ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ বা উৎপত্তি দেশ-সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানি করা পণ্যের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রযোজ্য সুবিধা গ্রহণ আরও সহজ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ

আমদানি করা পণ্যের মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি বিধিমালা অনুসরণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিতে টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি), কোডেক্স অ্যালিমেন্টেরিয়াস এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মানদণ্ড অনুসরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে মানসম্মত পণ্য আমদানি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি কাঠামোর সামঞ্জস্য আরও বাড়বে।

প্রবাসী বিনিয়োগ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে বাড়তি সুবিধা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আমদানি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এ ধরনের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্প ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাবের আশা

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল আমদানি নীতি শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমাতে পারে। একই সঙ্গে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ হলে ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হতে পারে। তাদের মতে, নতুন নীতির সুবিধা কাজে লাগানো গেলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯-এ শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সমন্বিত একটি ব্যবসাবান্ধব কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন এই নীতির বাস্তবায়ন কতটা সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা যায়—তার ওপরই নির্ভর করবে নতুন কাঠামোর সুফল ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা কতটা পান।


আ.দৈ/এসআর


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝