যথাসময়ে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরেই নির্বাচন হবে: মঈন খান
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবিধানিক বিধান ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই নির্বাচন হবে এবং জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হবেন—এটাই সরকারের লক্ষ্য। রোববার (২৩ আগস্ট) দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কত সময়ের মধ্যে শেষ হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন আয়োজনের একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে এখনই নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা যুক্তিসংগত হবে না। তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করেই সময়মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে।
এক বছরের মধ্যে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে কি না জানতে চাইলে মঈন খান বলেন, তার ব্যক্তিগত কোনো আলাদা সময়সীমা নেই। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে শুধু সিটি করপোরেশনকেন্দ্রিক না করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের একাধিক স্তরে নির্বাচন রয়েছে এবং প্রতিটি স্তরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। তার ভাষ্য, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে তারা সরকারে এসেছেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান ও সরকারের নীতি অনুসরণ করে এমন নির্বাচন আয়োজন করা হবে, যেখানে জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকবে। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরেই জনগণের ভোটে প্রকৃত প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জনগণের সেবাই প্রধান অগ্রাধিকার
নতুন দায়িত্বে মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মঈন খান বলেন, তার প্রধান অগ্রাধিকার জনগণ। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কাজ অন্য অনেক মন্ত্রণালয়ের তুলনায় আলাদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে। তাই জনগণের কাছে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দিতে পারাটাই হবে মূল সাফল্য। স্থানীয় সরকারকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এবং জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে পারলে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাও আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।
তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তৃণমূলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, সরকারের নীতি ও কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে চান তিনি। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সেবা যদি সঠিকভাবে তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলেই সরকার সফল হবে। মন্ত্রী জানান, তার সঙ্গে থাকা প্রতিমন্ত্রীর স্থানীয় সরকার বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি তার কাছ থেকেও শেখার প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান তিনি।
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের অগ্রাধিকার
দেশের সব মানুষের জন্য সরকার কাজ করবে জানিয়ে মঈন খান বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার মতে, সচ্ছল মানুষ নিজেদের অনেক প্রয়োজন নিজেরাই পূরণ করতে পারেন। কিন্তু দরিদ্র মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা বেশি প্রয়োজন। তাই সরকারের সেবার ক্ষেত্রে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মন্ত্রীর দাবি, দেশে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদেরই, যারা নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সক্ষম নন।
বিগত সরকারের সময়ে দরিদ্র মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। মঈন খান বলেন, দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন ও তাদের প্রয়োজন পূরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। তার নিজেরও মূল লক্ষ্য থাকবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, অতীতেও সরকারের দায়িত্বে থেকে এ বিষয়ে কাজ করেছেন। ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে থেকে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশের সেবা করতে চান।
আ.দৈ/এসআর




















