রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায়’ রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যা: পুলিশ
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম  আপডেট: ২৩.০৮.২০২৬ ৫:৫৮ পিএম  (ভিজিট : ৩৩)
X

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। নিহতরা হলেন—সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম।

শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে স্থানীয় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, হত্যার পর দুই অভিযুক্ত বাড়ির বাথরুমে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করেন। পরে বাড়ি থেকে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বের হয়ে সেগুলো একটি পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখেন।

আটকের পর মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের দেখানো জায়গা থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চারজনের মরদেহও বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় দোতলা বাড়ির ছাদে। সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ। আর ছেলে প্রিয়মের মরদেহ ছিল শোবার ঘরের খাটের নিচে। পরে ভোর ৪টার দিকে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছিল, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তদন্তে আরও কিছু বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘরের আসবাবপত্র, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলোও ভাঙচুর করা হয়েছিল।

পুলিশ কমিশনারের দাবি, তদন্তকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার জন্য বাড়ির মালামাল ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে ডাকাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। নিহত গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। এরপর তিনি বাড়িতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ বলছে, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণ চিত্র নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আ.দৈ/এসআর


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝