১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবি, না পেয়ে হামলা
ঢামেক চিকিৎসকের ওপর হামলার মামলায় দুই জনকে গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ হাজার ডলার চাঁদা দাবির পর না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ ওই হামলার পরিকল্পনাকারীসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে । গ্রেফতার আসামিরা হলেন- সানি সাহা (৩৮) ও ফাতিন ইসরাক লাবিব (২০)।
তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখা শেষে বাসায় ফিরছিলেন অধ্যাপক আসাদুর রহমান। রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার সময় জীবন ওরফে
আজ রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। ডিবি জানায়, এ ঘটনায় অধ্যাপক আসাদুর রহমানকে ঘটনার কয়েক দিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।
আদিলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। এসময় তিনি পথরোধের কারণ জানতে চাইলে হামলাকারীরা তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে জীবন ওরফে আদিল তার ডান চোখে আঘাত করেন। অন্যরা তার মাথা, দুই চোখের ওপরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানালে পল্টন মডেল থানার পুলিশ দ্রুত সেখানে যায় এবং জীবন ওরফে আদিলকে গ্রেফতার করে। অন্যরা পালিয়ে যান। পরে আহত অধ্যাপক আসাদুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় অধ্যাপক আসাদুর রহমান বাদী হয়ে জীবন ওরফে আদিলসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার কয়েক দিন আগে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। মামলার তদন্তে নেমে হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে ডিবি।
অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া গোয়ালপাড়া কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সানি সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। একই রাতে আড়াইটার দিকে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাতিন ইসরাক লাবিবকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সানি সাহার দেওয়া তথ্য জানিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় সিঙ্গাপুরের একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠানে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করার সময় ২০২৩ সালে জান্নাত আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি তাকে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেন।
পরে তিনি বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যবসায় পাঁচ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে ডিবিকে জানান। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে দেশে ফেরার পর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জান্নাত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে সানি সাহার দেখা হয়। তখন সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিদের বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর, পেশা, চলাফেরা ও আর্থিক বিষয়সহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ওই তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অধ্যাপক এ কে এম আমিনুল হক ও অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়। পরে সানি সাহা হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য লোক সংগ্রহের দায়িত্ব দেন ফাতিন ইসরাক লাবিবকে।
জিজ্ঞাসাবাদে লাবিবের দেওয়া তথ্য জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগে ফুড ডেলিভারির মাধ্যমে সানি সাহার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়। এরপর অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার জন্য আবু বকর (১৮), রাতুল (১৯), ইবান (২২), জীবন (২১) ও সাব্বিরকে (১৮) এক লাখ টাকার বিনিময়ে কাজে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। পরে ওই ব্যক্তিদের নিয়ে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় ইবান ও জীবন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
গ্রেফতার সানি সাহা ও ফাতিন ইসরাক লাবিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ভাটারা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
আ.দৈ./একে




















