বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হলেন রুহুল কবির রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দলের সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর খ (৬) ধারা অনুযায়ী রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তার এ মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির মাঠপর্যায়ের সংগঠক ও দলীয় মুখপাত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি, আন্দোলন এবং সংবাদমাধ্যমে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন রেভল্যুশনারি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে রিজভীর রাজনৈতিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি হামলা ও গ্রেপ্তারেরও শিকার হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠক হিসেবে দীর্ঘ পথচলা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বিএনপির মূল দলে উঠে আসার পর রুহুল কবির রিজভী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরার কাজ করেছেন তিনি।
২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়। এরপর থেকে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারির নেতাদের একজন হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলনের সময়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে দলের বক্তব্য তুলে ধরার কারণে গণমাধ্যমে রিজভীর উপস্থিতি ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। বিএনপির নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্য রয়েছে।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা
রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ এবং ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিও নিয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। বরং দলীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক আন্দোলনেই তার ক্যারিয়ারের বড় অংশ কেটেছে। এ কারণে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাকে দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের নেতা হিসেবে দেখা হয়।
এবার মহাসচিবের দায়িত্বে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিবের পদে পরিবর্তনের প্রয়োজন তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
নতুন দায়িত্বে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়াই হবে তার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও প্রকাশ্য মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুন এই দায়িত্ব পালনে তাকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু করে রাকসুর ভিপি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলেন রুহুল কবির রিজভী।
আ.দৈ/এসআর




















