শিশু হাসপাতাল ও আইসিডিডিআর,বির গবেষণা
হামে মারা যাওয়া ৮২ শতাংশ শিশুই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক

হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশ জীবনের প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ পায়নি। পাশাপাশি মৃত শিশুদের বড় একটি অংশ অপুষ্টিতে ভুগছিল। তাদের ১২ শতাংশ ছিল তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত এবং ৫৩ শতাংশের ছিল মাঝারি মাত্রার অপুষ্টি। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিহাই) এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে গবেষণার ফলাফল অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
গবেষণায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল ৩ থেকে ৯ মাস। গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পূর্ণাঙ্গভাবে মায়ের বুকের দুধ পায়নি। তবে হাম থেকে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ শতাংশে।
গবেষণায় টিকাদানের অবস্থা ও বয়স বিবেচনায় ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।
অন্যদিকে টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের, অর্থাৎ ৯২ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়। আর দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।
তবে দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, এটি কোনোভাবেই দেশের সামগ্রিক টিকার কার্যকারিতা বা হাম সংক্রমণের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কারণ গবেষণায় এমন শিশুদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যারা সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফলে এই হার কেবল গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হাসপাতালের রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কেন কিছু শিশুর হাম হয়েছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের ধারণা, টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বর্তমান গবেষণায় এসব সম্ভাবনার কোনটি সংক্রমণের জন্য দায়ী, তা নির্ধারণ করা হয়নি।
গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গবেষণার ফলাফল বলছে, শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষায় টিকাদানের পাশাপাশি জীবনের প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ নিশ্চিত করা এবং অপুষ্টি প্রতিরোধেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আ.দৈ/আরএস




















