রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম   (ভিজিট : ৩৫)
X


জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণে—৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বুধবার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

গ্রামীণ সড়কে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করবে ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প। আট বিভাগের ৬৪ জেলা ও সব উপজেলায় এ প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার ২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৭ হাজার মিটার সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসন করা হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব এলাকায় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের যাতায়াতে বেশি সমস্যা হচ্ছে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু সংস্কার করেই কাজ শেষ না করে সড়কগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণকে দেশের অন্যতম দুর্বল ক্ষেত্র উল্লেখ করে কার্যকর তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ সড়ককে টেকসই করতে পরীক্ষামূলকভাবে রাবার-বিটুমেন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্তও হয়েছে। প্রথম বছরে ১০০ কিলোমিটার সড়কে এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সময়ে এর পরিধি বাড়ানো হবে।

ঢাকা মেডিকেলে নতুন স্থাপনা

একনেকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুরোনো ও ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনা প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের আগস্ট পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরাজীর্ণ ভবন, ছাত্রাবাস এবং অন্যান্য আবাসিক ও অনাবাসিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১০টি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ১৯টি হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ২০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

সেতু রক্ষণাবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ১১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (কোইকা) সহায়তায় প্রকল্পটির আওতায় প্রাথমিকভাবে চারটি সেতুর অবস্থা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে সেতুর কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়মিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে বড় সেতু, টানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নদীভাঙন ও উপকূলীয় বাঁধে বরাদ্দ

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলা রক্ষায় ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির ব্যয় ৪৫ লাখ টাকা কমেছে।

সৌরবিদ্যুৎ ও ঢাকার বিদ্যুৎ অবকাঠামো

বিদ্যুৎ খাতের দুটি প্রকল্পেও সংশোধিত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জামালপুরের মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অতিরিক্ত ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে অতিরিক্ত ৬২৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনায় সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রামু সেনানিবাসে অবকাঠামো উন্নয়ন

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রামু সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৩১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রামু সেনানিবাসে ৮ হাজারের বেশি সেনাসদস্যের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে পাহাড় কেটে জমি সমতল না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যমান ভূপ্রকৃতি অক্ষুণ্ন রেখে এবং জমির স্বাভাবিক উচ্চতা বিবেচনায় ভবনের নকশা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নতুন পদ্ধতি

একনেক সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও নয়টি প্রকল্পের বিষয়েও অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্প এরই মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। একই ধরনের প্রকল্প বারবার নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে পরিকল্পনা কমিশন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, সরকার বিচ্ছিন্ন প্রকল্পনির্ভর পদ্ধতি থেকে সরে গিয়ে কর্মসূচিভিত্তিক ক্লাস্টার পদ্ধতির দিকে এগোচ্ছে। এ ব্যবস্থায় একই ধরনের প্রকল্পকে একটি অভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এতে প্রকল্পের পুনরাবৃত্তি শনাক্ত করার পাশাপাশি কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সেটিও সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ৪১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশোধিত পরিকল্পনা পর্যালোচনায় একটি কমিটিও কাজ করছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রকল্পের ধারণাপত্র তৈরি থেকে শুরু করে ডিপিপি প্রণয়ন, অনুমোদন ও কার্যাদেশ পর্যন্ত অনেক সময় দেড় থেকে চার বছর লেগে যায়। এ দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশোধিত একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নজরদারিতে একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ডও তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রভাব মূল্যায়নে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাঁচ বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা

২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাঁচ বছরের কৌশলগত লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে ভঙ্গুরতা থেকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পরবর্তী তিন বছর উত্তরণ এবং পুরো পাঁচ বছর পুনর্গঠন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এবং জরুরি জ্বালানি মজুত বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একনেকের বৈঠকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সংশ্লিষ্ট সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝