
তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি। রোববার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের যৌথ আয়োজনে ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি উপস্থিত ছিলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, যৌথ নদী কমিশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আবুল ফজল এম সালেহ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন।
সেমিনারে তিস্তা নদীর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মাসফিকুস সালেহীন। টেকসই ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান। এ ছাড়া পানি সংরক্ষণ ও সেচ উন্নয়ন বিষয়ে উপস্থাপনা করেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মোহা. সরফরাজ বান্দা।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানির প্রবাহ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিস্তা-সংক্রান্ত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে যথাসময়ে চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ে সরকার কোনো ছাড় দেবে না বলেও জানান তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্দশা লাঘবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও এর ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করার জন্য সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তায় টেকসই সমাধানের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।
আ.দৈ/এসআর




















