রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংস্কার বাস্তবায়নেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর তাগিদ অ্যামচেমের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৩৯)
X


নীতিগত সংস্কার শুধু ঘোষণা নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরই বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো নির্ভর করছে বলে মনে করছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটির মতে, সংস্কারের সুফল যদি বাস্তবে দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য হয়, তাহলে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানও শক্তিশালী হবে।

রোববার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। শেভরন বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, ট্রান্সকম গ্রুপ ও ভিসার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যামচেম।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অ্যামচেমের সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে বিনিয়োগ পরিবেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক জটিলতা, করব্যবস্থা, বন্দর-কাস্টমসের কার্যক্রম এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর ও নতুন খাতগুলোতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে পরিণত করতে হলে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তার বক্তব্যে মূলত বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতির স্থিরতা ও সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু সুযোগ থাকলেই হয় না, ভবিষ্যৎ পরিবেশ কেমন থাকবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণাও প্রয়োজন।
এইচএসবিসির সিইও মো. মাহবুব উর রহমানও বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, মূলধনের নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে দেশি ও বিদেশি—দুই ধরনের বিনিয়োগই বাড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, ব্যবসা পরিচালনায় নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে সরকার কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে সরাসরি মতামত জানানোর সুযোগ তৈরিতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

করব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে অটোমেশনের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সহজ করার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের খরচ ও সময় কমানোর উদ্যোগ রয়েছে। সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই।

আলোচনায় শুধু বড় বিনিয়োগ নয়, স্টার্টআপ ও উদীয়মান ব্যবসার অর্থায়নের সুযোগ নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কার্যকর মানদণ্ড তৈরি, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে করব্যবস্থায় দুর্নীতি কমার পাশাপাশি দক্ষতা ও স্বচ্ছতাও বাড়বে। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানের আলোচনায় একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সংস্কারের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।


আ.দৈ/এসআর

Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝