সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক-অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে: তাজুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বন্দর, যোগাযোগ ও শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নতুন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কৌশল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য দূরদর্শী নেতৃত্ব, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিভাজন এড়িয়ে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও জোর দেন তিনি।
তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম বড় সুযোগ বঙ্গোপসাগর। সমুদ্রের প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে এর কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর মতে, শুধু তৈরি পোশাকনির্ভর অর্থনীতির ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী শিল্প ও বাণিজ্যভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন বন্দর ও অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সামরিক সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অন্য কোনো দেশকে আক্রমণের জন্য নয়; বরং নিজস্ব ভূখণ্ড ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী করতে হবে। এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশকে আক্রমণের আগে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয় এবং আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান থেকে দর-কষাকষি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগাতে বঙ্গোপসাগর, বন্দর, পদ্মা ব্যারেজ এবং উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত বিদেশিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আ.দৈ/আরএস





















