
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের মূলনীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’-এর সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতির মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে। একইভাবে এসডিজি অর্জনেও সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসনে দেশ ঋণ ও আমদানিনির্ভর ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাত পুনর্গঠনে সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এসডিজির সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সমন্বয় করেই এই কাঠামো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, নিম্নআয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসডিজি স্থানীয়করণের অংশ হিসেবে দেশের তিনটি গ্রামকে পাইলট মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপের পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের নাফানগরে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি সহায়তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, সফল হলে ‘এসডিজি ভিলেজ’ মডেলটি দেশের অন্যান্য গ্রামেও সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উন্নয়ন মডেলে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র—যেখানে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং সবার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
সম্মেলন থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।




















