রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পথ হারালে এই জাদুঘর থেকেই নতুন পথের সন্ধান মিলবে: ড. ইউনূস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৩৩)
X

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি ভবন বা স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশ বা জাতি কোনো সময় পথ হারিয়ে ফেললে এই জাদুঘর থেকেই নতুন করে পথ খুঁজে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে।

ড. ইউনূস বলেন, জাদুঘরটি শুধু অতীতের ঘটনা দেখার জায়গা নয়; এটি মানুষের চিন্তা, আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যতের স্বপ্নকে ধারণ করবে। কোনো সময় জাতির চিন্তা বা লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটলে এখানকার স্মৃতি মানুষকে আবার সঠিক পথে ফিরতে সহায়তা করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের জাদুঘর থাকলেও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের বৈশিষ্ট্য আলাদা বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণত বহু বছর আগের ইতিহাস ও নিদর্শন জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু এই জাদুঘরে গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো ঘটার সময়ই বিভিন্ন স্মারক, দলিল, নিদর্শন ও মানুষের অনুভূতি সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তার বিভিন্ন প্রমাণ ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরাসরি এখানে স্থান পেয়েছে।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের কথাও তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ নিজেদের অনুভূতি ও স্বপ্ন লিখে রেখে গেছেন। কেউ কেউ পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে কেন রাজপথে নেমেছিলেন, সেই কথাও চিঠিতে তুলে ধরেছেন।

এই চিঠি ও দলিলগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি। দেশের প্রতিটি তরুণের মধ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হোক—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, দেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ সাধারণ মানুষের অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। তবে শুধু ঘুরে দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখানে এসে নিজেদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।

ড. ইউনূসের প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

জাদুঘর নির্মাণ ও বিভিন্ন নিদর্শন সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিটি স্মারক ও দলিল সংগ্রহের পেছনে ছিল দীর্ঘ শ্রম ও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্টদের পরিশ্রমের কারণেই আজ দেশের মানুষের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলো তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।

বক্তব্যের শেষে জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে দেশবাসীকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে শুধু দেখার জন্য নয়, বরং জুলাইয়ের ঘটনাগুলো কেন ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল এবং সেখান থেকে ভবিষ্যতে দেশ কোন পথে এগোবে—সেসব নিয়ে ভাবার সুযোগ রয়েছে।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝