রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হবে দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৩৪)
X

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ শুধু ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসেরও সাক্ষী হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের গণতন্ত্রের জন্য মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরবে এই জাদুঘর। ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিও এখানে সংরক্ষিত থাকবে।

তারেক রহমান বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দেশের মানুষের সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগকে জাতীয় স্মৃতির অংশ হিসেবে ধারণ করবে। একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার বাস্তব চিত্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম ও হত্যার মতো ঘটনাকে স্বাভাবিক করে তোলার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি। তাঁর মতে, এই জাদুঘর সেই ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অতীতের নানা ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষ। জাদুঘরটি যেন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের একক বয়ান প্রতিষ্ঠার জায়গা না হয়—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, আর ২০২৪ সালের আন্দোলনকে তিনি সেই স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের অবদানও জাতি স্মরণ করবে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইন অনুযায়ী করা হবে। তিনি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন।

এর আগে সকালে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শন করেন। সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন নিদর্শন, আলোকচিত্র, ঐতিহাসিক দলিল ও স্মারক ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস ও মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝