রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয় সংলাপ
পদ্মা ব্যারাজ দেশের পানি নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৫১)
X

দেশের পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত “পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)। গোলটেবিল আলোচনায় নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত ও জলবায়ুগত প্রভাব, পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদনশীলতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “বাংলাদেশের মৌলিক সমস্যা হলো  টু মাচ ওয়াটার অর টু লিট্ল ওয়াটার। কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়ে একমাত্র যুগান্তকারী মাইলফলক ছিল ১৯৭৭ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি। এরপর নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। 

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জনগণের আকাঙ্খাকে সামনে রেখে ব্যারেজের নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যোগ হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, “আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম মেগা প্রকল্প হলো পদ্মা ব্যারাজ। আমরা দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেব। এক্ষেত্রে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিই অনুসরণ করা হবে। অন্য কোনো দেশের খবরদারি বা নজরদারি মেনে নেয়া হবে না। জনগণের জন্য পানি সমস্যা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।”

ফাউন্ডেশন ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, “চীন ২০২৫ সালে ব্রহ্মপুত্রের উজানে যে মেগা প্রকল্প শুরু করেছে, তা ২০৩০ সালে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে ৬৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আঞ্চলিক পানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।”

অনুষ্ঠানে মডারেটর ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “দেশের চারটি বিভাগ, ১৯টি জেলা এবং প্রায় সাত কোটি মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে ষাটের দশকে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং পদ্মা ব্যারাজ একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

 আমাদের অন্যতম সমস্যা হলো শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করতে না পারা। পদ্মায় পানি থাকা সত্ত্বেও শাখা নদীগুলোতে তা পৌঁছায় না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

আইজিসিএফের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান শাওন বলেন, “আজকের আলোচনার উদ্দেশ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ একত্র করা, যাতে প্রকল্পটির সম্ভাবনার পাশাপাশি কারিগরি, পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকিগুলোও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়।

 একনেক গত ১৩ মে নিজস্ব অর্থায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজের প্রথম ধাপ অনুমোদন করেছে। পদ্মা ব্যারাজ শুধু একটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে পানি নিরাপত্তা, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, নদীর প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, সুন্দরবন, জীববৈচিত্র্য, আঞ্চলিক পানি কূটনীতি এবং বিপুল সরকারি বিনিয়োগের বিষয়ও জড়িত।”

আলোচনায় বক্তারা দেশের পানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, নদী ও শাখা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্য সুফল ও চ্যালেঞ্জ উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যনির্ভর মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. নুরুল ইসলাম, জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ডক্টরাল ফেলো ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী, র‌্যানকন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সিওও সুবাইল বিন আলমসহ আরও অনেকে।

আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা দেশের দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদনশীলতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের নীতি সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আ.দৈ/আরএস





Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝