রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, মন্ত্রিসভার অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৯)
X

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য নতুন আইনের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইনটির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তৈরি করা এই আইনে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, গুমের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে। আর গুমের ঘটনায় কারও মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই আইনের উদ্দেশ্য হলো গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো তৈরি করা।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার পরিচালনা, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং অভিযোগকারী, সাক্ষী, তথ্যদাতা ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগী ও পরিবারের সদস্যদের ঘটনার তদন্ত অগ্রগতি, প্রকৃত তথ্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের জন্য একটি তহবিল গঠনের পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে পাঁচ বছর পর গুম সনদ দেওয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনে গুমসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদন্ত ও বিচার সম্পন্নের সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিন এবং বিচার শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ ১২০ দিনের বিধান রাখা হয়েছে।

সম্পত্তি দানে নতুন আইনি সুরক্ষা

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদির কাছ থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনিদের নামে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তি দানের পর দাতার ভোগদখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টিকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাতিল হচ্ছে ২০২৬ সালের ওষুধ তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি

এদিকে মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সরকার জানিয়েছে, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরির আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০২৬ সালের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

এ কারণে বিষয়টি উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা বিচারাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে গত ২৯ জুন জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা এই পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে নতুন তালিকা বাতিল হলেও ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা হবে। ওষুধের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ না পড়ে এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে—এ বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোতে একদিকে মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিচারিক কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ দেখা গেছে, অন্যদিকে সম্পত্তি আইন ও ওষুধ খাতে বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে আইনি সংস্কারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝