
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় কর্মঘণ্টা শেষে রাতের বেলায় ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগে নতুন করে তদন্ত জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় ব্যাংকের ১৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আগামী ৪ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে বলা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত তলবি নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কর্মঘণ্টার বাইরে রাত ৮টার পর বিপুল অঙ্কের এই লেনদেন কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘মেসার্স ইমপ্যাক্ট কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’-কে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তলব করা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের একাধিক এসভিপি, ইভিপি, ভিপি, শাখা ব্যবস্থাপক এবং কোম্পানি সেক্রেটারিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন।
এর আগে একই ঘটনার প্রেক্ষিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় অনুসন্ধানে নামে দুদক।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদে ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছানোর পর রাত ৮টা ২৩ মিনিট থেকে ৯টা ৪ মিনিটের মধ্যে ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আলী হায়দার রতন ওই অর্থ গ্রহণ করেন।
এছাড়া পর্ষদের ৪৭৫তম সভার নথিতে উল্লেখ ছিল, গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের নামে সীমাতিরিক্ত ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ঋণপত্র খোলা হয়েছিল এবং অন্য ব্যাংকেও প্রতিষ্ঠানটির ঋণ খেলাপির তথ্য ছিল। এরপরও ঋণ নবায়নের সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ পায়, যা বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




















