ডিএনসিসি প্রশাসক ও এমপির ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ
উত্তরখানে সংঘর্ষে ১৫ জন প্রচ্ছন্নকর্মী আহত, ৪ জন হাসপাতালে
নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর উত্তরখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ডিএনসিসির এসটিএস এ কর্মরত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ওপর স্থানীয় ‘নেপচুন এক্সেসরিজ গার্মেন্টস’ মালিক পক্ষের লোকজন হামলায় ১৫ জন প্রচ্ছন্ন কর্মী আহত হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ রোববার (০২ আগস্ট) সকালে ডিএনসিসির আওতাধীন অঞ্চল ৮ এর ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখানের রাজাবাড়ি এলাকায় ‘এসটিএস এ’ পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ওপর ‘নেপচুন এক্সেসরিজ গার্মেন্টস’ মালিক পক্ষের লোকজন হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
পরে খবর পেয়ে আজ দুপুরে ডিএনসিসির প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিলটন এবং ঢাকা- ১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর ‘নেপচুন এক্সেসরিজ গার্মেন্টসের’ মালিক পক্ষের সন্ত্রাসী এবং স্থানীয় লোকদের অতর্কিত ভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ। জনসংযোগ বিভাগ থেকে আরো জানানো হয়, আজ দুপুরে ডিএনসিসি প্রশাসক এবং সংসদ সদস্য, পুলিশের উপ-কমিশনার, থানার ওসি সহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে গেলে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সাথে ওই গার্মেন্টস মালিকপক্ষ পুনরায় দুর্ব্যবহার করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ডিএনসিসি প্রশাসক ও এমপির সামনে গার্মেন্টস মালিক পক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পুনরায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় কয়েকজন আহত হন। পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে তিন সন্ত্রাসীকে আটক করে নিয়ে যায়। একই সাথে পুলিশ সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে।
আহত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দেখতে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রশাসক ও এমপি দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। প্রশাসক গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়ি. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও দোকান পাটের ময়লা আর্বজনা সংগ্রহের লাখ লাখ টাকার কাজ ‘ আলোচিত ভ্যানসার্ভিস’নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি,যুবদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছা সেবকদল ও ছাত্র দলের কতিপয় নেতার মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
তারই ধারাবাহিকতায় আজ রোবাবর (২ আগস্ট) রাজধানীর উত্তর খান এলাকায় ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভ্যানসার্ভিসের কাজ নিয়ন্ত্রণে নিতেই এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। শুধু তাইনয়, আজ সরকার দলীয় লোক হবার সুবাধে তারা ডিএনসিসির প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাস্তানি করার সাহস পেয়েছেন। কারণ তারাও সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের পদধারী নেতা ও এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি।
খোঁজ নিয়ে আরো জানান যায়, নগরীর প্রতিটি এলাকায় সরকার দলীয় লোকজনের বেপরোয়া আচরণ এবং ভ্যানসার্ভিসের কাজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় সবাই এগিয়ে আছেন। কেউ কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ। সামনে আরো বড় ধরনের সংঘর্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
আ. দৈ./কাশেম




















