বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১২ কার্তিক ১৪৩৩
ই-পেপার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
পরে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান
চেক ডিজঅনার মামলায় নামের মিলে নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৬ পিএম   (ভিজিট : ৯০)
X

ভয়াবহ প্রতারণা ,জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলায় প্রকৃত আসামির পরিবর্তে শুধু নামের  মিল পেয়েই এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে গেফতার করে টানা ৪ মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। পরে টানা চার মাস কারাভোগের ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে বাদীপক্ষ। ক্ষতিপূরণ গ্রহণের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন ভুক্তভোগী।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে উভয় পক্ষ আপস-মীমাংসার নথি জমা দিলে আদালত তা গ্রহণ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার  দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া ইব্রাহিম খলিল অপু এবং ভুক্তভোগী মামুন মিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু। আদালতে আপস-মীমাংসার সময় ভুক্তভোগী মামুন মিয়া, তার আইনজীবী এবং বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালত প্রাঙ্গণে মামুন মিয়া বলেন, নামের মিলের কারণে তিনি অন্যায়ভাবে প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন। মুক্তির পর দায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। পরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া জাদু বলেন, বিশ্বাস পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিঃশর্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না বলে আশ্বাস দেওয়ায় অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মাকসুদুল হক ওয়ালিদ বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার ভুলের কারণে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালতের পরামর্শে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ৩২ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার হওয়ার ঘটনায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস আইনের ১৩৮ ধারায় মামলা করা হয়। বিচার শেষে ২০২৫ সালের ২৯ জুন আদালত এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৩২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

পরে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে দাবি করেন, তিনি ওই মামলার প্রকৃত আসামি নন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বা চেকের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এরপর আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে নরসিংদীর শিবপুর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দেন যে, কারাগারে থাকা মামুন মিয়া প্রকৃত আসামি নন; কেবল নামের মিলের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ১৯ মে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। পরদিন তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

মুক্তির পর অন্যায়ভাবে কারাভোগের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির আবেদন করেন মামুন মিয়া। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটে।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

● About Us    ● Advertisement    ● Terms & Conditions    ● Privacy Policy    ● Copyright Policy    ● Circulation    ● Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝