এক্সিম ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ,সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের জামিন হয়নি
নিজস্ব প্রতিবেদক

৮৫৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের মামলার আসামি এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের জামিন আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির।
ফলে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে নজরুল ইসলাম মজুমদারকে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা বহুল আলোচিত এ মামলায় তার জামিন আবেদন নাকচের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আদালত সূত্র।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুদকের করা বহুল আলোচিত ৮৫৭ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার আপাতত কারাগারেই থাকছেন। তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির।
মামলাটির শুনানিতে আসামিপক্ষে আইনজীবী কামরুল ইসলামসহ কয়েকজন জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম আবেদনটির বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে ‘মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করেন। ওই ঋণের মাধ্যমে ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটির দাবি।
মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের স্বাভাবিক ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া উপেক্ষা করেন। ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সুপারিশ ও বোর্ড মেমোর অপব্যবহার করে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই ঋণের অর্থ ছাড় করা হয়। পরে সেই অর্থ আত্মসাতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ নজরুল ইসলাম মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
আ. দৈ./কাশেম




















