৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারিত সংবাদটি অবিকৃত অবস্থায় পুনরায় প্রকাশ করাতে বলা হয়েছে
ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচার, ওই প্রতিবেদন গায়েবের ঘটনায় বাসসকে আইনি নোটিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের সুনিদিষ্ট অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই প্রতিবেদনটি গায়েবের অভিযোগে একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস)’ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজাওয়ানুল সাঈদ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠান। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারিত সংবাদটি অবিকৃত অবস্থায় পুনরায় প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে এই নোটিশে।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে বাসসের বাংলা পোর্টালে ‘২৫ মিলিয়ন ডলার পাচার: ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীকে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টায় ইংরেজি পোর্টালেও সংবাদটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো ধরনের সংশোধনী, প্রত্যাহার-বিজ্ঞপ্তি বা ব্যাখ্যা ছাড়াই ওয়েবসাইট থেকে সংবাদটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়। নোটিশদাতা আইনজীবী কারণ জানতে চাইলে বাসসের প্রধান বার্তা সম্পাদকের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, 'সম্পাদকীয় নীতির' কারণে সংবাদটি সরানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সংবাদটি গায়েব করার বিষয়ে গত ১৪ জুলাই বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে প্রধান বার্তা সম্পাদকের পক্ষ থেকে 'সম্পাদকীয় নীতি'র খোঁড়া অজুহাত দেওয়া হয়। অথচ বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ সংক্রান্ত অসংখ্য সংবাদ বাসস প্রকাশ করেছে, যা এখনও তাদের ওয়েবসাইটে সগর্বে উন্মুক্ত রয়েছে। কেবল ইবিএল চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের সংবাদটির প্রকাশের ক্ষেত্রেই এমন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক আচরণ স্পষ্টতই স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।
নোটিশে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক, প্রধান বার্তা সম্পাদক, প্রধান প্রতিবেদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সংবাদটি মূল লিংকে পুনর্বহাল এবং অপসারণের লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নোটিশদাতা আইনজীবী এ এইচ এম রেজাওয়ানুল সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বাসস একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান; জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই সংস্থার কাছে মানুষের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু তারা কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জনগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সরিয়ে ফেলছে। এর আগেও ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি সংবাদ বাসস তাদের ওয়েবসাইট থেকে ঠিক একইভাবে সরিয়ে ফেলেছিল। বারবার এমন ঘটনা প্রমাণ করে যে, তারা তথ্য গোপনের একটি স্বেচ্ছাচারী ও বৈষম্যমূলক চর্চা শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
আ. দৈ./কাশেম




















