রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নগর ব্যবস্থাপনায় ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ কাঠামোর জরুরি :প্রতিমন্ত্রী
ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে হলে নগর সরকারের বিকল্প নেই : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ পিএম  আপডেট: ১৫.০৭.২০২৬ ৬:৫৩ পিএম  (ভিজিট : ৯৩)
X

বিএনপি মহাসচিব ,স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নয়, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই ঢাকা শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখ সম্ভব হবে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত  প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের সভাপতিত্বে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন,ঢাকা সিটি করপোরেশনকে নগর সরকারে রূপান্তরের বিকল্প নেই। বর্তমানের বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সরকারের পাশে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকায় প্রয়োজন রয়েছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জোর দিয়ে বলেছেন,অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা ও ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকাকে বাসযোগ্য, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এক নিয়ন্ত্রকের অধীনে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা জুরুরি। তিনি বলেন, এই শহরের বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের স্বার্থে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ বেশ কিছু বড় বড় বাস্তব সমস্যা রয়েছে। রাজধানীতে বিভিন্ন সংস্থা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণেই নগর ব্যবস্থাপনায় কাক্সিক্ষত অগ্রগতি করা যাচ্ছে না। ফলে এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। 

প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গবেষণা মূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম,যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার এমডি মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মোঃ সাইমুম পারভেজ, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, বিজিএমইএ’র  সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক মোঃ শাহীন আহমেদ খান প্রমুখ।

সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেঃ জেনাঃ সৈয়দ রাকিবুল হাসান. পি.এস.সি, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম,অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান,প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এস.এম.শফিকুর রহমান, উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান ভুঁইয়া,আঞ্চলিক সব নির্বাহী কর্মকর্তা, আঞ্চলিক সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকর্মকর্তা বৃন্দ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের-সিবিএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বুলেট , গুলশান, বনানী, নিকেতন, উত্তরা সোসাইটির প্রতিনিধি,ডিএনসিসির বিভিন্ন মাকেট সমিতির প্রতিনিধি,ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে নগর ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ঢাকার দ্রুত নগরায়নের ফলে এখানে নগর ও গ্রামীণ দুই ধরনের সংস্কৃতির প্রভাব দেখা যায়। অনেকেই এখনও পূর্ণাঙ্গ নগরজীবনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ববোধে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। তাই একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ যখন বুঝতে পারে নিয়ম ভঙ্গ করলে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই আইন মেনে চলে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কিংবা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারির আওতায় চালকেরা ট্রাফিক আইন বেশি মেনে চলেন। কারণ তারা জানেন নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা গুনতে হবে। এই সচেতনতা ও দায়িত্ববোধই একটি উন্নত নাগরিক সমাজ গড়ে তোলার ভিত্তি।

তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ছাড়া ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে তুলতে হবে। মন্ত্রী বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে হবে। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। গণমাধ্যম, সামাজিক প্রচারণা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বস্তি এলাকাসহ নগরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

তিনি বলেন, সরকার নদী পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তুরাগ নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা শহরের অস্তিত্ব ও টেকসই ভবিষ্যৎ চারপাশের নদীগুলোর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে সরকার বিকল্প উৎস থেকে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের একটি প্রকল্প প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকা পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন,  ‘নগরের যেকোনো সমস্যার জন্য সবাই সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করেন। অথচ এই শহরে ট্রাফিক পুলিশ, ওয়াসা, রাজউক, তিতাস গ্যাস, টিএন্ডটি, কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো নগরীতে তাদের প্রয়োজেনে নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন মূলক কাজ করেন। তারা সবাই স্বাধীন কেউ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অধীন নয়। এসব প্রতিষ্ঠান একীভূত করে সিটি গভর্নমেন্ট গঠন করা গেলে শতভাগ না হলেও অন্তত ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে বর্তমানে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভা করতে হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের আহ্বানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বাধ্যতামূলকভাবে একত্র করা সম্ভব হয় না। ফলে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নগর ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়ন, খাল-লেক পুনরুদ্ধার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। গত চার বছর চার মাসে তিনি এসব বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ২০টি বৈঠক করেছেন এবং অনেক সময় নিজেই নগর পরিদর্শন করে সমস্যা চিহ্নিত করেছেন।

মীর শাহে আলম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ‘ডাস্টবিন থাকার পরও অনেকেই যত্রতত্র ময়লা ফেলেন। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব জায়গা থেকেই পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি জানান, আগামী বছরের নতুন পাঠ্যপুস্তকে প্রাথমিক স্তর থেকেই পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নৈতিকতা ও সামাজিক আচরণ বিষয়ে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সরকার একাধিক ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২০২৮ সালের জুলাই-আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন বছর স্থগিত থাকার পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে প্রকল্পটির কার্যক্রম আবারও চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমিনবাজারে বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখ টনের বেশি বর্জ্য জমে আছে। এ বিপুল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ল্যান্ডফিলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জৈব সার, মাছ ও মুরগির খাদ্য, প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল এবং নির্মাণসামগ্রী তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পে সরকারের কোনো বিনিয়োগ থাকবে না। বরং কোম্পানিটি জমি ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেবে এবং বর্জ্য ব্যবহারের জন্য দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে প্রতি কেজিতে ১০ পয়সা পরিশোধ করবে।

তিনি জানান, এ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামীকাল স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে পরিবেশ, বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি উপস্থাপনাও করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও হাতিরঝিল এলাকার লেকগুলো দূষিত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে সুয়ারেজ লাইনের মুখ সরাসরি লেকে গিয়ে পড়া।

তিনি বলেন, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি) দেশের সবচেয়ে বড় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হলেও সেখানে ঢাকা শহরের প্রয়োজনীয় সুয়ারেজ লাইন সংযুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে এর সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে।

তিনি জানান, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও হাতিরঝিল এলাকার সুয়ারেজ লাইন দাশেরকান্দি প্ল্যান্টের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্ল্যান্টটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং খাল-লেকের দূষণও কমবে।

প্রতিমন্ত্রী অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোতে নিজস্ব ক্ষুদ্র সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে পরিশোধিত পানি বাগান পরিচর্যা, গাড়ি ধোয়া ও অন্যান্য কাজে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে মালিকানা ও দায়িত্বের জটিলতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ধানমন্ডি লেক ৫০ বছরের জন্য দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লেকটি খনন, সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও জনবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।একই সঙ্গে হাতিরঝিল, গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের পরিচ্ছন্নতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান। রাজধানীতে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি ড্রেনের মুখ বর্জ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা দ্রুত পানি অপসারণে কাজ করছেন।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝