ফ্যাসিবাদ রুখতে ঐক্যের বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা যদি ধরে রাখা না যায়, তবে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা আর কখনো শৃঙ্খলিত হতে চাই না।
আমাদের গণতন্ত্রকে আর কখনো স্বৈরাচারী শক্তি অবদমিত বা পদদলিত করতে পারবে—সেটা আমরা হতে দেব না। সে জন্যই আমরা সংবিধানের ও রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই।’বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগকে প্রশাসনিক আদেশে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে মত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে (প্রশাসনিক আদেশে) কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাকে সঠিক মনে করি না।
এটি জুডিশিয়াল প্রসেস বা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তি ও সংগঠন—উভয়েরই বিচার করার বিধান রয়েছে। সেই আলোকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করার আইনি প্রক্রিয়া সচল করা হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে বড় বড় কথা বলছেন। আমরা আইনানুগভাবে প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি অনুসারে ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় থেকেই তাকে ফিরিয়ে আনার চিঠি ও তাগাদাপত্র দিয়েছি। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, তার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাকে দেশে আনা মাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে।
এ ছাড়া বিদেশে পলাতক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ ও অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগির তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।’
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের যে স্ফুলিঙ্গ প্রকাশ পেয়েছিল, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তার সফল সমাপ্তি ঘটে। ১৫ জুলাই যখন আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়, আমি তখন নির্বাসনে ছিলাম। কিন্তু আমার সব মনোযোগ ও সহযোগিতা আন্দোলনের সঙ্গেই ছিল। তখন বিদেশে বসেই তন্নী নামের এক ছাত্রীর ওপর ছাত্রলীগের বর্বর হামলার ছবি দেখেছিলাম, যা পরে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয় এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ১৬ জুলাই আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে আমার গ্রামের সন্তান ওয়াসিম আকরাম এবং পরবর্তীতে মুগ্ধসহ শত শত বীর সন্তান শহীদ হন।’
তিনি আরো বলেন, ‘নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি সংগঠন ও গ্যাস্টাপো বাহিনীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যে গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না। অথচ অত্যন্ত লজ্জার বিষয়, এই গণহত্যার জন্য তাদের মধ্যে ন্যূনতম কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার বালাই নেই।’
আন্দোলনের কৃতিত্ব একক কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করি। এই আন্দোলনের একক কৃতিত্ব কারও নয়, দেশের সমস্ত সাধারণ জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এই কৃতিত্ব সাধারণ মানুষের।’
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা তোমাদের কাছে এক নতুন বাংলাদেশ রেখে যাচ্ছি। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন ৭১-এর শহীদরা এবং ২০২৪-এর জুলাইয়ের শহীদরা দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব এখন তোমাদের।’
আ.দৈ/আরএস




















