ডিসেম্বরের আগেই শেখ হাসিনাকে আনার আশা চিফ প্রসিকিউটরের
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জুলাই গণহত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং চাইলে সরকার ডিসেম্বরের আগেই তাকে দেশে আনতে পারে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে শেখ হাসিনার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরোয়ানা কার্যকর রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন—এটি তার রাজনৈতিক বক্তব্য। তিনি যদি বৈধ বা অবৈধ যেকোনো পথেই দেশে আসেন, সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার হবেন এবং সাজা পরোয়ানা অনুযায়ী কারাগারে পাঠানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার চাইলে আইনগত প্রক্রিয়ায় এর আগেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে।’
আপিল প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে তিনি বিলম্বের কারণ দেখিয়ে আপিলের আবেদন করতে পারেন কি না, সেটি আদালতের বিবেচ্য বিষয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের অবস্থান হলো—তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া সাজা পরোয়ানা কার্যকর করা।
এদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করলে আইনগতভাবে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। এরপর তিনি আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিলম্বিত আপিলের আবেদন করতে পারেন। তবে সেটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত আদালতের।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক রয়েছেন।
আ.দৈ/আরএস




















