রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিনিয়োগকারী সুরক্ষায় বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বাতিল করবে বিএসইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৪০)
X

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, বিশ্বেও কোথাও বন্ধ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করতে দেওয়া হয় না। তাই বাংলাদেশের শেয়ারবাজারেও উৎপাদন বন্ধ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাজারের উন্নয়নে আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজারে সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সহজ করা, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ বাড়ানো, মার্জিন ঋণের বিধিমালা শিথিল করা, টি+১ সেটেলমেন্ট চালু, বন্ড বাজারকে মূল মার্কেটে আনা এবং ডেরিভেটিভস চালু অন্যতম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারের ব্যবস্থাপনায় ইতোমধ্যে পরিবর্তন এসেছে। বাজার তদারকিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে কোনো শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইকে কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে ডিএসইকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণের ক্ষমতাও স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষমতা আরও বাড়ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হবে। মিউচুয়াল ফান্ডকে শক্তিশালী না করলে দেশের পুঁজিবাজারও শক্তিশালী হবে না। কারণ অধিকাংশ খুচরা বিনিয়োগকারীর পক্ষে ভালো কোম্পানি বাছাই করা কঠিন। তাই বিদেশের আদলে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডের বিধিমালায়ও পরিবর্তন আনা হবে। 

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, মার্জিন ঋণ এবং পাবলিক ইস্যু বিধিমালাও সংশোধন করা হবে। বর্তমানে আইপিওতে আসতে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং বিপুল কাগজপত্র জমা দিতে হয়। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকঋণকেই সহজ বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়। এ কারণে আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাসুদ খান বলেন, ভবিষ্যতে ইউনিলিভার ও ইনসেপ্টার মতো বড় কোম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমানে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এ সুবিধা পায়। নতুন ব্যবস্থায় সব ধরনের কোম্পানি ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করেই ডাইরেক্ট লিস্টিং করতে পারবে। 

তিনি বলেন, বর্তমান মার্জিন ঋণ নীতিমালায় এত বেশি শর্ত রয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঋণ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত নতুন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর মার্জিন ঋণ পাওয়া আরও সহজ হবে। 

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সমালোচনা সত্ত্বেও ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় লন্ডনে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের তালিকাচ্যুতি ঠেকাতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজারে শেয়ার লেনদেনের পর নিষ্পত্তিতে সময় কমানো হবে। বর্তমানে দুই দিনে লেনদেন নিস্পত্তি হয়। এটি কমিয়ে টি+১ অর্থাৎ একদিনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। পুঁজিবাজারে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আদালতে আটকে যায়। অতীতের একটি কমিশন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। এ পরিস্থিতি বদলাতে বিশেষ বেঞ্চ গঠন এবং পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বন্ড বাজারকে সক্রিয় করতে বর্তমানে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে থাকা বন্ডগুলোকে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন। 

ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খান বলেন, কর্মী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির ক্ষমতা ডিএসইর নিজস্ব। এ বিষয়ে বিএসইসির হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে বিএসইসি থেকে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের বিষয়ে চলতি মাসের মধ্যেই একটি সমাধান হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি বহুজাতিক কোম্পানি থেকে এসেছি। আমরা কাজের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পরিকল্পনায় এবং ২০ শতাংশ বাস্তবায়নে ব্যবহার করি। বিএসইসিতেও যোগদানের আগে ৩ মাস এই বাজার নিয়ে পরিকল্পনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট ও পাস হওয়া বাজেটে পার্থক্যগুলো এসেছে। এটি কি আলাদিনের চেরাগ? না। এটির জন্য আমাদের পেছনে থেকে অনেক কাজ করতে হয়েছে।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বড় না করলে বাজার এগোবে না। রিটেইল ইনভেস্টরের পক্ষে তো ভালো শেয়ারের জ্ঞান নেই। বিদেশে একটি লাইসেন্স এনালাইসিস থাকে। আমরা এটির আদলে ফাইন্যান্সিয়াল পরামর্শক সনদ দেব। ভারতে দেখবেন একটি পানের দোকানেও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়। 

আমার প্রধান টার্গেট ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। এটিতে নিয়ে আমরা কাজ করছি। মিউচুয়াল ফান্ড, মার্জিন ইস্যু রুলস এবং পাবলিক ইস্যু রুলস পরিবর্তন করতে হবে। বাজার ঠিক করতে হলে এগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে। একটি কোম্পানি কেন আইপিওতে আসে না। তাদের এক বস্তা কাগজ দিতে হয়। এ ছাড়া দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ব্যাংকে গেলে দ্রুত সময়ে অর্থ পায় উদ্যোক্তারা। তাই আমরা আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করব। আমাদের এই প্রক্রিয়া সহজিকরণ করতেই হবে।’

শেয়ারবাজারের অপরাধীদের জেল ও আর্থিক জরিমানা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি। কারণ হিসেবে মাসুদ খান বলেন, বর্তমানে বিএসইসি জরিমানা ও শাস্তি দিলেও তা আদালতে আটকে যায়। এ কারনে বিগত কমিশন ১৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করলেও আদায় হয়েছে মাত্র ৩৩ লাখ টাকা। 

এসমস্যা সমাধানে বিএসইসি এরইমধ্যে আদালতে বিশেষ বেঞ্চ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজার বিষয়ক ট্রাইবুন্যালে সরাসরি মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ড মার্কেট সক্রিয় করতে আগামীতে বন্ডকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডের পরিবর্তে মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত করা হবে। এছাড়া ডেরিভেটিবস চালুর জন্য বিএসইসি সক্রিয় রয়েছে। এটা চালু করতেই হবে। 

বিএসইসি প্রসঙ্গে মাসুদ খান বলেন, ‘এটি এমন একটি জায়গা, যারাই এসেছেন, তারাই কলঙ্কিত হয়েছেন। এজন্য আমি প্রথমে দায়িত্ব নিতে চাইনি। পরে যখন দেখলাম এই সরকার ক্যাপিটাল মার্কেটবান্ধব। আর আমাকে যিনি এই পদে আসতে বললেন, তিনি জানালেন যে আমি সম্পূর্ণ স্বাধীতভাবে কাজ করতে পারবেন। অর্থাৎ বর্তমান সরকারকে পুঁজিবাজারবান্ধব মনে হওয়া এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি পরিকল্পনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। বিএসইসিতে যোগ দেওয়ার আগেই প্রায় তিন মাস ধরে দেশের পুঁজিবাজার নিয়ে কাজের পরিকল্পনা করেছেন বলেও জানান। 

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝