সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃক্ষরোপণের সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ৪৯)
X

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে বড়সড় জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী-ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যে ট্রেন লাইন গিয়েছে, সেখানে কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে, কিন্তু আমি নিজে যাচাই করে দেখেছি সেখানে বড়জোর দুই লাখের মতো গাছ হবে।

বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে আমরা ‘ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ’ এবং ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’সহ বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আগামী ৫ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। অযৌক্তিকভাবে গাছ না লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছামতো গাছ রোপণ করলে আমাদের লক্ষ্য সফল হবে না। কোন পরিবেশে, মাটিতে ও আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। নব্বইয়ের দশকে লাগানো ইউক্যালিপটাস বা আকাশমণি গাছ পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এর বদলে দেশীয় প্রজাতির ওষুধি, অর্কিড, বাঁশ জাতীয় বনজ, ফলদ বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা বেশি দরকার।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখননের কর্মসূচি শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটি শুধু নগর প্রশাসন বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। 

যেখানে সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট না ফেলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি নিজের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক যুবকের রাস্তায় প্যাকেট ছুড়ে ফেলার কথা উল্লেখ করে তিনি পরিবেশকর্মীদের সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানান।

জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ— এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। কোনো একটি পোকা বা মাকড়সা দেখলে আমরা ঠাস করে মেরে দেই। ও তো আপনাকে কামড়াচ্ছে না, কী দরকার ওকে মারার? একটা পাখি দেখলে আমরা ঢিল মারি। এসব জিনিস আমাদের বাচ্চাদের শেখানো উচিত।

উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক— এটিই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা। দেশ হোক সব প্রাণী এবং প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝