রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ালে বসে থাকবো না সরাসরি সাইবার আইনে গ্রেফতার: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৬:১১ পিএম   (ভিজিট : ৩৬)
X

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে কোনও রকম প্রোপাগান্ডা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ করে শিক্ষাব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সাইবার আইনের আওতায় পুলিশকে সরাসরি গ্রেফতার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস না হলেও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে আপনি প্রোপাগান্ডা করবেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেন, ভাইরাল হওয়ার জন্য এমন অপপ্রচার চালাবেন। আর আমরা চুপ করে বসে থাকবো, তা হতে পারে না। প্রশ্নপত্র আউট হবে না, কিন্তু বিভ্রান্তিকর নিউজ দেবেন; এটার কি বিচার হতে হবে না ? এজন্য সাইবার অ্যাক্টের পরিবর্তন হচ্ছে এবং আমাদের প্রচলিত আইনেও রয়েছে যে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর নিউজ যারা দেবে, তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে নেওয়া হবে।

 এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি করে সংবাদ বা পোস্ট দিলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সত্যতা না থাকলে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার জন্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৮ জুন) সকালে এইচএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষাবোর্ড, সিলেট অঞ্চলে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

‘পরীক্ষা হোক নকলমুক্ত, শিক্ষার মান হোক উন্নত’ এবং ‘সুশিক্ষায় গড়ি দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জালালাবাদ গ্যাস ভবন অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, সিলেটের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, ডিজিটাল তদারকি এবং শিক্ষকদের অধিকার রক্ষায় সরকারের একগুচ্ছ পরিকল্পনা ও রূপরেখা তুলে ধরেন।

নকল প্রতিরোধ আইনের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালের নকল প্রতিরোধ আইনটিকে বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের বিষয়গুলো যুক্ত করে সম্পূর্ণ নতুন ও কঠোরভাবে প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিগত পরীক্ষাগুলোর সফলতার মূল চালিকাশক্তি ছিল সিসি ক্যামেরা। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্যাকেজ চালু হচ্ছে, যার আওতায় শিক্ষকদের ট্যাব ও ল্যাপটপ দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি শ্রেণিকক্ষের পাঠদান পর্যবেক্ষণ করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনও প্রকার অনিয়ম বা নকল পাওয়া গেলে কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাই সম্পূর্ণ দায়ী থাকবেন। শিক্ষক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বজায় রাখতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে চলমান আইনি জটিলতা ও মামলার জট খোলার মাধ্যমে খুব দ্রুত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় এক-দুজন শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালানোর সংকট আর থাকবে না।

নীতিমালার আলোকে জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কোনও রাজনৈতিক তদবির বা বিবেচনায় নয়, সম্পূর্ণ জনস্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে বেসরকারি স্কুল-কলেজ সরকারিকরণের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তবে সরকারিকরণের পর শিক্ষকরা যেন কোনও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করেন, সেজন্য তাদের কাছ থেকে আগে লিখিত ফার্ম কমিটমেন্ট নেওয়া হবে। সরকারি কলেজ আত্তীকরণের ক্ষেত্রে বাদ পড়া শিক্ষকদের প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত দূর করা হবে। শিক্ষা অধিদফতর ও সংশ্লিষ্ট দফতরে বসে কোনও প্রকার দালালি বা ঘুষ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। অনিয়ম পেলে সরাসরি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মীয় শিক্ষক সংকট ও কওমি গ্র্যাজুয়েটদের সমন্বয়ে নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয় রোধে স্কুল-মাদ্রাসায় শূন্য থাকা প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকের পদ দ্রুত পূরণ করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। মাদ্রাসায় আলিয়ার ‘তাজবিদ’ কোর্সের জটিলতা কাটাতে এবং শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনে কওমি মাদ্রাসার যোগ্য ‘দাওরায়ে হাদিস’ গ্র্যাজুয়েটদের এই নিয়োগে সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন। বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মো. সাদেকুর রহমান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. রুহুল আমিন, সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝