মাজারের আয় ব্যয়ের হিসাব নেয়ায় ডিসিকে প্রত্যাহার
সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ারকে প্রত্যাহার
ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের বহুল আলোচিত ও সাহসী সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন।
গত শুক্রবার সকালে শাহজালাল মাজার এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এসময় তিনি মাজারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একটা প্রকল্প চলাকালে মাজারের আয়-ব্যয়ের অসচ্ছতার বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে এক সভায় মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাব চাওয়া হলে কিছুই দেখাতে পারেনি দুই মাজার কর্তৃপক্ষ।
সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন সারওয়ার আলম। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
শাহজালালের মাজারের দানবাক্স সিলগালা, পাহারা বসালো প্রশাসন তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের পর এবার নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। বদলির আদেশে সুস্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে সাহসী উদ্যোগ নেন ডিসি সারওয়ার। মাজারের তিনটি ডেগ সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসান তিনি। গতকাল শনিবার ডেগের ওপর সিসি ক্যামেরাও বসান তিনি।
জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে মাজারের দান খয়রাতের টাকার ভাগবাটোয়ার করে আসছিল মাজারের নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু পরিবার। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহসী উদ্যোগ নেন সারওয়ার আলম। তার এই উদ্যোগকে সিলেটের সাধারণ মানুষ স্বাগত জানালেও একটি পক্ষ তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
এ অবস্থার মধ্যে আজ রোববার ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার আদেশ জারি করা হয়। বছরের পর বছর ধরে চলছে এমন রীতি। কিন্তু প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীর কাছ থেকে ওঠা লাখ লাখ টাকা ও দান খয়রাতের অন্যান্য জিনিসপত্র কোথায় যায়— এ নিয়ে সিলেটবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ছিল নানা প্রশ্ন।
দীর্ঘদিনের এই ‘অসচ্ছতার প্রথায়’ হস্তক্ষেপ করেন দেশজুড়ে আলোচিত সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এবারই প্রথম প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন তিনি।
জানা যায়, হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
আ. দৈ./কাশেম




















