রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সবগুলো কোরবানি হাটের আর্বজনা পরিস্কারের জন্য বরাদ্দ করা টাকা কোথায় যায়, নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার
ডিএনসিসিতে কোরবানি হাটের আর্বজনা পরিস্কারে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ পিএম  আপডেট: ২০.০৬.২০২৬ ৯:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ৯৯)
X

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কোরবানি হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কারের জন্য ১০ শতাংশের বরাদ্দকৃত টাকা নানা কৌশলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইজারা মূল্যের শর্ত অনুযায়ী হাট পরিস্কারের জন্য ওই টাকা পৃথক খাতে রাখা হয়। কারণ বরাদ্দ করা ও নির্ধারিত এই টাকা দিয়ে কোরবানি ঈদের পর দ্রুত হাট পরিস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে সবগুলো কোরবানি হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কারের জন্য নির্ধারিত ও বরাদ্দ করা টাকাগুলো বর্জব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দেওয়া হয় না। বরাদ্দ করা এই টাকা কোথায় যায় তার কোন  হিসেব নেই। সরকারের যে কোন তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করলে আলো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অনেকের অভিমত রয়েছে। 

 নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, হাট পরিস্কারের জন্য নির্ধারিত ও বরাদ্দকৃত টাকা কৌশলে অন্য খাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোরবানির হাট পরিস্কারের জন্য সিডিউলে পরিস্কার উল্লেখ করা ইজারা মূল্যে ১০ শতাংশ টাকা পৃথক ভাবে হাট পরিস্কারের  জন্য বলা থাকলেও, ওই টাকা বর্জ্য ব্যবস্থপনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের  কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।এবার উত্তরায় দিয়াবাড়ির হাটের ময়লা আর্বজনা সময় মতো পরিস্কার না হবার কারণ  অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

এসব কাজে যাদের সহযোগিতা করার কথা তারা বিষয়েটি এরিয়ে যাচ্ছেন। ডিএসসিসির প্রশাসকের দপ্তর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার দপ্তর এবং প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তার দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকাদেরকে হাট পরিস্কারের টাকা দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডিএনসিসির ওইসময় দায়িত্ব প্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তার জোবায়ের হোসেন ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে কোরবানি ১০টি হাটে সর্বোচ্চ দরদাতাদের হাট বুঝিয়ে দেওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন। আর ১৬টি হাটের মধ্যে ৬টি হাটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত   তখন হয়নি।  পরে ৪টি হাটের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়ে ছিল বলে জানানো হয়। এরপর আরো কোন গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। 

 কোরবানি ঈদের আগে গত ২০ মে সরবরাহ করা লিখিত রেকর্ডে চূড়ান্ত হওয়া ১০টি  হাটের তথ্য সরবরাহ হয়। চূড়ান্ত হওয়া ১০টি হাটের মধ্যে কয়েকটি হাটের তথ্য তুলে ধরা হলো।

 মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন খালি জায়গার হাটটির ইজারা মূল্য  ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪৭ হাজর টাকা। তবে সর্বোচ্চ দরদাতা এক কোটি ৭৯ লাখ টাকায় হাটিটি ইজারা নিয়েছেন মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সিরাজুল ইসলাম। শর্ত অনুযায়ী এই হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কারের জন্য ইজারা মূল্যের ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭০০ টাকা পৃথকভাবে বরাদ্দ রয়েছে।

 মিরপুর কালশী বালুর মাঠসংলগ্ন খালি জায়গার হাটির ইজারা মূল্য ৩০ লাখ টাকা। তবে সর্বোচ্চ দর দাতা ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন রেদোয়ান রহমান। হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কারের জন্য ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ টাকা।

 ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন খালি জায়গা হাটিটির উজারা মূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। তবে  ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দর দাতা হিসেবে ইজারা নিয়েছেন শিকদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুল ইসলাম। এই হাট পরিস্কারের জন্য বরাদ্দ ১০ শতাংশ অথ্যাৎ ১১ লাখ ৩০ হাজার ৫৯০ টাকা।

 ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গার হাটিটির ইজারামূল্য ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন এম আসলাম। হাট পরিস্কারের জন্য বরাদ্দ ১০ শতাংশ অথ্যাৎ ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। 

উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর-সংলগ্ন বউবাজার এলাকা অস্থায়ী কোরবানির হাটের ইজারা মূল্য ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় এসএফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন ইজারা নিয়েছেন।হাটটি শর্ত অনুযায়ী পরিস্কারের জন্য বরাদ্দ ১০ শতাংশ অথ্যাৎ ৮৩ লাখ ৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। 

৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বাজার-সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকার হাটটি ইজারা মূ্ল্য ১৫ লাখ ৫,৫০০ টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৭ লাখ টাকায় রফিকুল ইসলাম সরকার ইজারা নিয়েছেন। এই হাটি পরিস্কারের জন্য শর্ত অনুযায়ী ১০ শতাংশ বরাদ্দ ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। 

 ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা ইজারা মূল্য ৫০ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা ২কোটি ৩৩ লাখ টাকায় মুহম্মদ তুহিন ইসলাম ইজারা নিয়েছেন। এই হাটের পরিস্কার জন্য বরাদ্দ ৫ লাখ টাকা ।

বেরাইদ এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের হাটিটি ইজারা মূল্য ১ কোটি টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা  ৫কোটি ৭ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নিয়েছে এ এম এন্টার প্রাইজ এর মালিক আতাউর রহমান। হাটটি পরিস্কারের জন্য বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা।

৩০০ ফিট সংলগ্ন যমুনা গ্রুপের জমিতে হাটটির ইজারা মূল্য ৬০ লাখ টাকা। সবোর্চ্চ দরদাতা মেসার্স মনিকা এন্টারপ্রাইজএর মালিক আক্তার হোসেন ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় হাটটি ইরজার নিয়েছেন।  শর্তানুযায়ীএটি পরিস্কারের জন্য বরাদ্দ ৬ লাখ  টাকা।

এদিকে বর্জব্যবস্থাপনা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা হাট পরিস্কারের জন্য ডিএসসিসির বরাদ্দকৃত টাকা পাননি বলে জানান। তবে চাকরির নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে জারি হননি। অপরদিকে দিয়ারবাড়ি কোরবানি পশুর হাটের ময়লা অর্বজনা পরিস্কারের টাকাও দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝