রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এক বছরে ৪১% বেড়েছে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ
‎নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম   (ভিজিট : ৪৩)
X

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)।

এই পরিমাণ আমানত বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল।

এরপর দুই বছর ধারাবাহিকভাবে আমানত কমে গেলেও ২০২৪ সালে তা আবার বাড়তে শুরু করে। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর প্রচলন খুব বেশি না থাকলেও বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এক সুইস ফ্রাঁর মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা।

প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা হিসাবে ধরলে, সুইস ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালেই সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ।

তবে সুইস ব্যাংকে রাখা সব অর্থই যে অবৈধভাবে পাচার করা অর্থ, তা নয়। সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের অর্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—উভয়ের নামেই জমা থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকও বৈধ উপায়ে দেশটির ব্যাংকগুলোতে অর্থ সংরক্ষণ করে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সুইস ব্যাংকে হিসাব খুলে অর্থ জমা রাখতে পারেন।

শুধু সুইজারল্যান্ডেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সুইস ব্যাংকের শাখাগুলোতেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অর্থ জমা করতে পারেন। এসব অর্থও বাংলাদেশিদের মোট আমানতের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের জমা রাখা এসব অর্থকে সংশ্লিষ্ট দেশের দায় (লায়াবিলিটি) হিসেবে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করে।

এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই দুই বছরে জমার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ এবং পৌনে ২ কোটি সুইস ফ্রাঁ।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) এবং দলঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে যান। তাদের অনেকের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ বিশ্বের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ স্থানান্তর করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্রেও এ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝