সীমান্ত সংকট নিয়ে আলোচনা স্থগিত: জামায়াত সংসদ সদস্যের তীব্র অসন্তোষ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি এবং পাশ্ববর্তী দেশ থেকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনসভায় পূর্বনির্ধারিত বিশেষ আলোচনা স্থগিত করায় গভীর অসন্তোষ ও তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর আইনপ্রণেতা মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদের কার্যক্রম শুরু হলে জরুরি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই বিষয়ে তার ক্ষোভ উগরে দেন। অবশ্য বাজেট অধিবেশনের ব্যস্ততা এবং সময়ের স্বল্পতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আশ্বস্ত করেছেন যে, খুব দ্রুতই এই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হবে।
পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখার সময় জামায়াতের ওই সংসদ সদস্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সীমান্তে বিএসএফের আগ্রাসন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্য পুশ-ইন তৎপরতা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে তিনি কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারা মোতাবেক একটি সাধারণ প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।
সংসদ সচিবালয় থেকেও তাকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, আজ রোববারের কার্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এর অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। এমনকি গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও এই বিষয়টি রোববারের মূল আলোচ্যসূচিতে ছিল। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে আজ সকালে সরবরাহ করা সংশোধিত কার্য তালিকায় এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বাদ দেওয়া হয় এবং অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করে ওই আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও রক্তের চেয়ে রাষ্ট্রের কাছে আর কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেতে পারে যে, এমন একটি জাতীয় সংকটকে 'অনিবার্য কারণ' দেখিয়ে আলোচনার বাইরে রাখা হলো। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের একক ইস্যু নয়, বরং পুরো দেশের সমস্যা উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, ঠিক কবে এই স্থগিত প্রস্তাবটি পুনরায় আলোচনার জন্য টেবিলে আনা হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদ কক্ষ শান্ত করার চেষ্টা করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়নি এবং এটি তার বিবেচনাধীন রয়েছে। বর্তমানে বাজেট পেশ ও পাসের মতো অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে সংসদ, যার কারণে সময় বণ্টন নিয়ে কিছু বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের বিষয়টিকে অত্যন্ত মৌলিক ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু হিসেবে মেনে নিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাজেট সংক্রান্ত জরুরি কাজ সম্পন্ন হওয়া মাত্রই এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে এবং নোটিশটির ওপর আইনপ্রণেতাদের দীর্ঘ আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করা হবে।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচ




















