সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: সরকারি ও বিরোধী দলের বাগবিতণ্ডা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক নিখোঁজ ছাত্রনেতার উদ্ধার ও তার বিরুদ্ধে রুজু হওয়া ফৌজদারি মামলাকে কেন্দ্র করে সরকারি দল এবং বিরোধী পক্ষের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে একটি স্বতঃপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সভাপতিমণ্ডলীর হস্তক্ষেপে পরিবেশ শান্ত হলে সংসদীয় কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।
অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের সন্ধানে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি কোনো নিখোঁজের ঘটনা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে এক নারীর সঙ্গে ওই ছাত্রনেতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক গর্ভপাতের ওষুধ সেবন করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্ধারিত দিনে বিয়ে না করে আইনি জটিলতা এড়াতে জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যান, যাকে পরে লাকসাম থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং দুজন আসামি আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন। মন্ত্রী দাবি করেন, একটি মহল এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করায় প্রকৃত সত্য দেশবাসীকে জানাতেই তিনি সংসদে এই তথ্য উপাপন করেছেন।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাহের। তিনি নিয়ম ও কার্যপ্রণালী বিধির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ৩০০ বিধিতে কোনো বিবৃতি দেওয়ার পর সম্পূরক প্রশ্ন বা পাল্টা বিতর্কের সুযোগ থাকে না। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আইনি কাঠামোর সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রসঙ্গটি এনেছেন। একটি বিচারাধীন এবং অমীমাংসিত বিষয়কে এভাবে আইনসভায় উত্থাপন করা নজিরবিহীন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উদ্ধার হওয়া জিসান বর্তমানে কোথায় আছেন এবং কেন গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগী বা জিসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না? পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদ কক্ষের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী শিবিরের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে একে অপরের উদ্দেশ্যে চিৎকার ও শ্লোগান দিতে শুরু করেন, যা এক পর্যায়ে চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।
এই অবস্থায় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার এবং নিজ নিজ আসনে বসার অনুরোধ জানান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিয়ম অনুযায়ী এই বিধির ওপর কোনো আলোচনার অবকাশ নেই, তবে বিশেষ বিবেচনায় বিরোধীদলীয় উপনেতাকে বলতে দেওয়া হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তিনি রুলিং দেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে যদি কোনো সংসদীয় কার্যপ্রণালী পরিপন্থী বা অসংসদীয় উপাদান থাকে, তবে তা যাচাই-বাছাই করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হবে। স্পিকারের এই কঠোর অবস্থানের পর সংসদ শান্ত হয় এবং পরবর্তী কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচ




















