এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক সাত্তার এখন টাকার কুমির
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা সাত্তার আজ শত কোটি টাকার মালিক, রয়েছে ঢাকার অভিজাত এলাকা লালমাটিয়ায় ফ্ল্যাট, পূর্বচলে প্লট, কুমিল্লায় কোটি টাকার সম্পদ, নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাবসা, আত্নীয় স্বজনের নামে সম্পদ, নিজের নামে বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার বাজারে লগ্নি করা মোটা অঙ্কের টাকা।
স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে আলিশান জীবন-যাপন করেন। ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করেছেন বেসরকারি ব্যায়বহুল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই কর্মকর্তার বেতন-ভাতাদি ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা। সেখানে তার পরিবারের মাসিক খরচ পাঁচ থেকে ৬ লাখ টাকা। পিডি সাত্তারের উত্থান শুরু হয় শৈরাচার আওয়ামীলীগ আমলে তৎকালীন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এবং আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ট দোসর হিসেবে পরিচিত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহিদুর রহমানের হাত ধরে।
তৎকালীন শৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কুমিল্লার দুই মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাপ্টেন তাজ এবং রেল মন্ত্রী মুজিবুল হকের ঘনিষ্ট ছিলেন পিডি সাত্তার। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা পিডি সাত্তারকে এলজিইডির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু প্রসাসন শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন ) হিসেবে নিয়োগ দেয় শৈরাচার হাসিনার দোসর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান। তথন থেকে শুরু হয় পিডি সাত্তারের বদলী বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য।
৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারি থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা বদলী করতেন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিতেন তৎকালিন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন ) বর্তমান পিডি সাত্তার। ঘুষের টাকায় লালমাটিয়ায় ক্রয় করেন কোটি টাকার ফ্ল্যাট, নামে বেনামে ঢাকার বিভিন্ন উন্নত এলাকায় কেনেন প্লট ও জমি। পরবর্তিতে বদলী করা হয় এলজিইডির প্রকিউরমেন্ট শাখায় সেখানেও থামেনি। পিডি সাত্তার প্রকিউরমেন্টের মাধ্যমে এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রদানের লক্ষ্যে ক্রয় করা হয় কোটি টাকার কম্পিউটার, প্রিন্টার মেশিন দরপত্রের মাধ্যমে কোটি টাকার এসব অফিস সরঞ্জামাদী ক্রয় করা হলেও দরপত্রের গুরুত্বপূণ্য তথ্য তার পছন্দের ঠিকাদারকে সরবরাহ করে হাতিয়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা। প্রকিউরমেন্ট শাখায় মাসিক ভাড়ায় গাড়ি সরবরাহ চুক্তি করা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্টানের সাথে। উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে কমিশন পেতেন পিডি সাত্তার।
চুক্তিকৃত গাড়ীর মাসিক ভাড়া এবং জ্বালানি খরচ সরকারি বরাদ্দ থেকে পরিশোধ করা হলেও গাড়ী ব্যবহার করা হতো পিডি সাত্তারের স্ত্রীর ব্যাক্তিগত কাজে, ছেলে-মেয়ের স্কুল কলেজের যাতায়াতের কাজে এবং গাড়ী চালকের মেয়ে-মেয়ের জামাতার আনন্দো ভ্রমনে। ২ বছর আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দক্ষিণ চট্রগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ণ প্রকল্পে (এসসিআরডিপি)। শত কোটি টাকার এই প্রকল্প পেয়েই লুটপাট শুরু করেন পিডি সাত্তার।
আউটসোসিং এর মাধ্যমে কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দেন তার লুটপাটের অন্যতম সহযোগী তার ড্রাইভারের মেয়ের জামাই এবং তার নিজ ভাগ্নেকে। নিয়োগ প্রকিক্রিয়ায় বিভিন্ন শর্ত থাকলেও মানা হয়নি তা। পিডি নিজেই বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কাগজ তৈরি করে নিয়োগ দেন। তার প্রকল্পের বিভিন্ন সাপ্লায়ারে নামে ভুয়া বিল করে কোটি টাকা তুলে দেয়ার ব্যাবস্থা করে দেন। তার হিসাবরক্ষক সোহেল এর প্রতিদান হিসেবে তার ভাইকে প্রকল্প পরিচালক তার প্রকল্পের সাথে চুক্তিবদ্ধ পরামর্শক কোম্পানিতে গোপনে মোটা বেতনের চাকুরির ব্যাবস্থা করে দেন।
এছাড়া চাকরি দেন তার গাড়ি চালকের আরও এক মেয়ের জামাতাকে। চুক্তি বাতিলের ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক পরামর্শক কোম্পানিকে বাধ্য করে নিজেই তৈরি করে দেন ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ। সূত্রে জানা যায়, তার হিসাবরক্ষক এবং তার গাড়ীচালককে দিয়ে সকল ঘুষ বাণিজ্য লেনদেন করেন পিডি সাত্তার। দক্ষিণ চট্রগ্রাম প্রকল্পে সরকারি টাকায় ক্রয়কৃত সরকারি গাড়ী পিডির পাশাপাশি ব্যবহার করে গাড়ীচালকের শালীর জামাতা, অন্যদিকে এই প্রকল্পে মাসিক ভাড়ায় চুক্তিভিত্তিক আরেকটি গাড়ী ব্যাবহার হয় হিসাবরক্ষক সোহেলের যাতায়াতে এবং পিডি সাত্তারের স্ত্রী, ছেলে-মেয়ের ব্যাক্তিগত কাজে যা সরকারি চাকুরি বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। পিডি সাত্তারের সরকারি টাকার অপচয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তার অবৈধ এসব কাজের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে এলজিইডির কর্মকর্ত/কর্মচারিরা।
এ বিষয়ে আব্দুস সাত্তারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




















