রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাজেটে সিগারেটের সব পণ্যের দাম বাড়বে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম  আপডেট: ১১.০৬.২০২৬ ৫:৩৯ পিএম  (ভিজিট : ৪৫)
X


অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট তামাকজাত পণ্যের ওপর সবচেয়ে বড় ধরনের কর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যমস্তরের ৯২ টাকা, উচ্চস্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তরের সিগারেটের মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো ও অন্যান্য নিকোটিনজাত পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। নিকোটিন গ্রানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ এবং সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে সিগারেট, নিকোটিন পাউচ এবং অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দেশীয় অ্যালকোহলজাত পণ্যের মূল্যও বাড়তে পারে।

মোটরগাড়ি খাতেও করের চাপ বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসি ক্ষমতার মধ্যম সারির ডিজেল ও পেট্রোলচালিত গাড়ির মোট করহার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এ শ্রেণির গাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।

আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের মধ্যে কাজুবাদামের ওপর বড় ধরনের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্ক এক শতাংশ থেকে এবং প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে বাজারে আমদানিকৃত কাজুবাদামের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উচ্চমূল্যের আমদানিকৃত হিমায়িত মাছ এবং পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপরও নতুন কর আরোপ করা হয়েছে। হাই-ভ্যালু আমদানিকৃত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং পাঙ্গাস ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এতে আমদানি করা মাছের খুচরা দাম বাড়তে পারে।

গৃহস্থালি পণ্যের মধ্যে আমদানি করা হাউজহোল্ড ওয়াশিং মেশিনের ওপর নতুন করে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে বিদেশি ব্র্যান্ডের ওয়াশিং মেশিন কিনতে গ্রাহকদের বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে।

নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন পণ্যেও কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমএস রড ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এছাড়া আমদানি করা জিপসাম বোর্ড ও শিটের ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক, কোল্ড-রোল্ড কয়েল ও শিটের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক, কপার তারের ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং কপার টিউবের শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পণ্য নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে।

শিল্পের কাঁচামালের মধ্যে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবারে নতুন করে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ, পিভিসি ও পিইটি রেজিনের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ এবং মেইজ স্টার্চের শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাইসাইকেলের ফ্রি হুইলের শুল্কও ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে এক কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতার ট্রান্সফরমারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি উৎপাদন ও বিতরণ খাতেও ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

গ্রিজ প্রুফ পেপার ও গ্লাসিন প্রুফ পেপারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা ও একই সঙ্গে ৫টি কাচাঁমাল আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্কের প্রস্তাব করেছেন মন্ত্রী।

গ্রিজ প্রুফ পেপার এবং গ্লাসিন পেপার উভয়ই মূলত তেল ও চর্বি প্রতিরোধী কাগজ। গ্রিজ প্রুফ পেপার একটি ফুড-গ্রেড কাগজ, যা তৈলাক্ত বা আর্দ্র খাবার যেমন—বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজ্জা বা ভাজাপোড়া মোড়ানোর জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। গ্রিজ প্রুফ পেপার এবং গ্লাসিন পেপার যথাক্রমে সাধারণ ফাস্ট ফুড ও দৈনন্দিন খাবার মোড়ানোপ্রিমিয়াম ফুড প্যাকেজিং ও শৌখিন কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব পণ্যের উপর করভার বাড়ানোর ফলে রেস্তোরায় খাবারের দাম বাড়বে।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝