বিরোধী দলের এলাকায়ও সমান উন্নয়ন হবে-- প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান প্রশাসন দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সমান অগ্রগতিতে বিশ্বাসী। এই কারণে ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকাতেও সমভাবে প্রগতির ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেই সঙ্গে ইতিবাচক ও সংশোধনমূলক যেকোনো মতামতকে সরকার সাদরে গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। বুধবার (১০ জুন) অপরাহ্নে জাতীয় সংসদের বাজেটীয় সেশনের চতুর্থ দিবসে একটি অতিরিক্ত জিজ্ঞাসার জবাবে সরকারপ্রধান এই মন্তব্য করেন।
উক্ত সভায় সভাপতিত্বের দায়িত্বে ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংসদকক্ষে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের একটি অতিরিক্ত জিজ্ঞাসার প্রতিউত্তরে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত কোটার নারী জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিধি ও আঞ্চলিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরাসরি ভোটে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের সুনির্দিষ্ট সীমানা থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের জন্য সংবিধানে বা বিধিমালার কোথাও পৃথক কোনো এলাকা নির্ধারিত নেই। তবে দলীয় ও সাংগঠনিক বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কিছু ক্ষেত্র ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রগতির ক্ষেত্রে সরাসরি ভোটে জয়ী প্রতিনিধি এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য—উভয়েরই ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আমরা প্রচলিত প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই অগ্রসর হচ্ছি। আপনাদের অঞ্চলের প্রগতির স্বার্থে আমার তরফ থেকে কোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে অবগত করবেন, আমি সরাসরি সেই বিষয়ে হাত বাড়াতে সচেষ্ট হব।’
এরপর সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের অন্য একটি জিজ্ঞাসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম প্রবৃদ্ধি এবং বিরোধী শিবিরের প্রতি প্রশাসনের ইতিবাচক মনোভাবের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
স্পিকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত একটি সভার উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘দিনকয়েক আগে সংসদীয় কার্যপ্রণালী নির্ধারণের লক্ষ্যে কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে শ্রদ্ধেয় বিরোধীদলীয় নেতাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, উৎসবের পূর্বে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে যে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছিল, তা বিরোধী দলের অনেক প্রতিনিধি পাননি। আমি ওই সভা শেষ করেই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কে অবিলম্বে নির্দেশ দিয়েছিলাম, বিরোধী শিবিরের কোনো সদস্য যদি বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তবে যেন দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করা হয়।’
তারেক রহমান দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসন দেশের প্রতিটি প্রান্তের সমান্তরাল অগ্রগতিতে আস্থাশীল। আমরা, শাসক দলের প্রতিনিধিরা যেভাবে নিজ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করব, ঠিক একইভাবে সরকারের পূর্ণ সমর্থন থাকবে বিরোধী শিবিরের সদস্যদের প্রতিও। আমরা সমানভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরেও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যে সমস্ত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা নিরসনে বিরোধী শিবিরের সাথে কোনো সংলাপ হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমন প্রশ্ন রাখলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, ‘আমার ধারণা এই বিষয়ে আমাদের আরও কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে। যাত্রা তো কেবল শুরু হলো, আসুন আমরা অপেক্ষা করি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই প্রশাসন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সুতরাং, যদি কোনো ইতিবাচক ও সংশোধনীমূলক সমালোচনা থাকে, তবে অবশ্যই আমরা তা সাদরে গ্রহণ করব এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচ




















