রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশাসকের সাথে মার্কেট কমিটির মতবিনিময় সভায় সিদ্ধান্ত
ডিএসসিসিতে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স একসাথে পরিশোধে ১৫% সারচার্জ মওকুফ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:০০ পিএম  আপডেট: ০৯.০৬.২০২৬ ৬:১১ পিএম  (ভিজিট : ১০২)
X

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির স্বার্থে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌরকর) একসাথে পরিশোধ করলে ১৫% সারচার্জ মওকুফের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারনত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স একত্রে পরিশোধ করলে ১০% সারচার্জ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। 

আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবনস্থ অডিটোরিয়ামে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। 

আজ ডিএসসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ট্রেড লাইসেন্সসহ সার্বিক বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় আলোচনার ভিত্তিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ​মতবিনিময় সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বাজার ও মার্কেটের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান,​সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন এবং করদাতাদের বকেয়া পৌরকর পরিশোধে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের আওতায় চলতি (অর্থ বছর) আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করলে আরোপিত ১৫% শতাংশ সারচার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। করদাতারা এই সুযোগ গ্রহণ করে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ছাড়াই তাদের বকেয়া কর পরিশোধ করতে পারবেন।

​মতবিনিময় সভায় মার্কেট প্রতিনিধিরা দোকানের ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা, মার্কেটের সামনে হকারদের অবৈধ অবস্থান, আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও অবৈধ দখলসহ মার্কেট পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। প্রশাসক মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন,​“ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সড়ক নির্মাণ, ড্রেনেজ উন্নয়ন, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নাগরিক সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রাখতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের কর ও ভাড়ার অর্থেই পরিচালিত হয়। রাজস্ব ঘাটতির কারণে সেবা কার্যক্রমে চাপ তৈরি হচ্ছে, তাই ব্যবসায়ীদের নিয়মিত কর ও ভাড়া পরিশোধে এগিয়ে আসতে হবে।”

​অনিয়ম ও অবৈধ স্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন অনিয়ম ও জটিলতা আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। আপনারা নিয়ম মেনে সহযোগিতা করুন, সিটি কর্পোরেশনও প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেখানে আপনারা বৈধভাবে ব্যবসা করবেন এবং কর্পোরেশনও তার প্রাপ্য রাজস্ব পাবে। একজনকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করলেই তা বৈধ হয়ে যায় না; বৈধতার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম অনুসরণ করতেই হবে।”

​সভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়:

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জরিমানা: নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং সেখান থেকে কর্পোরেশনের নির্ধারিত ঠিকাদাররা তা সংগ্রহ করবে। কোনো অবস্থাতেই মার্কেটের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। সময়মতো বর্জ্য না ফেললে বা নিয়ম অমান্য করলে নোটিশ ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজার নিয়মিত পরিষ্কার ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখতে হবে।

 ​ট্রেড লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড কর: অনেক মার্কেটে এখনো বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ীর বৈধ লাইসেন্স নেই। মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হলে দীর্ঘদিনের বকেয়াসহ জরিমানা আরোপ হতে পারে, তাই দ্রুত লাইসেন্স হালনাগাদ করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অতিরিক্ত বড় সাইনবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে।

​অবৈধ দখল উচ্ছেদ: মার্কেটের প্যাসেজ, জনসাধারণের চলাচলের পথ ও প্রবেশদ্বার দখল করে কোনো দোকান বসানো যাবে না। স্বউদ্যোগে এসব অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী কঠোর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

​বিশেষ অবকাঠামো নির্মাণ: স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিএসসিসি এলাকার সকল রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল ও ক্যাফেতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধার্থে পৃথক র‌্যাম্প ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

​পরিশেষে ডিএসসিসি প্রশাসক নগরবাসী, ব্যবসায়ী ও করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বকেয়া পৌরকর পরিশোধে প্রদত্ত সারচার্জ মওকুফের এই বিশেষ সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে করদাতারা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি নগরের উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও বেগবান হবে।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝