‘১০০ দিনে ৬০৫ খুন, ১৯৬ অপহরণ,’ সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে দেওয়া এক ঝাঁঝালো বক্তব্যে তিনি বর্তমান প্রশাসনের প্রথম ১০০ দিনে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের এক আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে তিনি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন। বক্তব্যের শুরুতে টিআইবির একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা দাবি করেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অপরাধের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, কেবল মার্চ ও এপ্রিল মাসেই দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই আইনশৃঙ্খলা সংকটের মধ্যে খোদ পুলিশ বাহিনীর ওপর ১২৯ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি, যা অপরাধীদের বেপরোয়া ভাবকেই স্পষ্ট করে।
দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা তিনি পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপন করেন। আলোচ্য সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।
এর মধ্যে ৭৮ থেকে ১০২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, ৩০ থেকে ৩৬ জন গণধর্ষণের নির্মম শিকার হয়েছেন এবং ৪৯ থেকে ৭১ জন শিশুও এই পাশবিকতার হাত থেকে রেহাই পায়নি। এই বাস্তব চিত্রই প্রমাণ করে যে বিগত তিন মাসে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে সরকারের সার্বিক সফলতা ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে রুমিন ফারহানা বলেন, একটি প্রশাসনের অর্ধেক সফলতা বা ব্যর্থতা সরাসরি নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর, আর বাকি অর্ধেক অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
বিশেষ করে অর্থ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতাই সরকারের মূল স্তম্ভ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণে তার ব্যর্থতার খতিয়ান সরাসরি তুলে ধরতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকারের জনপ্রিয়তার একটি বড় অংশ মূলত এই দুই মন্ত্রণালয়ের সফলতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচজ




















