সরকারি কর্মকর্তাদের ‘জয়রাইড’ রুখে দিলেন প্রধানমন্ত্রী: মেধা ও সাশ্রয়ের অনন্য নজির
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রমোদভ্রমণ আর রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে আবারও কঠোর ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সড়ক বাতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি শেখার অজুহাতে ফ্রান্স সফরের একটি বিলাসী ফাইল সম্প্রতি কাটছাঁট করেছেন সরকারপ্রধান।
তাঁর এই বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয় রুখে দেওয়া গেছে, অন্যদিকে আমলাতান্ত্রিক বিলাসিতার চেয়ে প্রকৃত মেধাকে মূল্যায়নের এক দারুণ বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মূলত ‘সিগনেফাই বাংলাদেশ লিমিটেড’ কোম্পানির আমন্ত্রণে ফ্রান্সে ‘আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার’ পরিদর্শনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের একটি সফরের প্রস্তাব জমা পড়েছিল।
কিন্তু ফাইল পর্যালোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত যৌক্তিক ও দূরদর্শী এক সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রশাসক নিজে কোনো প্রকৌশলী নন, তাই এই সফরে তাঁর যাওয়া স্রেফ গুরুত্বহীন ও অর্থহীন। তবে যেহেতু বিষয়টি সম্পূর্ণ কারিগরি, তাই কেবল সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীই প্রয়োজনে ফ্রান্সে যেতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত কেবল একটি সফর বাতিল নয়, বরং এটি দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। পদমর্যাদার খাতিরে ঢালাওভাবে বিদেশ ভ্রমণের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তাতে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর লাগাম টেনেছেন তিনি। টেকনিক্যাল জ্ঞান যার আছে, রাষ্ট্র কেবল তাকেই সুযোগ দেবে—প্রধানমন্ত্রীর এই অনড় অবস্থান দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক বাহবা কুড়াচ্ছে।
শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী এই ফাইলের ওপর আরেকটি চমৎকার ও দেশপ্রেমী নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের যেকোনো উদ্ভাবনী বা প্রযুক্তিগত কাজের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ মেধা, বিশেষ করে বুয়েট (BUET) এবং অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া উচিত। দেশের মেধা ও অর্থকে দেশের ভেতরেই কাজে লাগানোর এই দূরদর্শী চিন্তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তাদের এমন অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরের বিলাসিতায় প্রধানমন্ত্রীর "না" বলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও মশক নিধনের পদ্ধতি দেখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিলাসবহুল যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবটি এভাবেই নাকচ করে দিয়েছিলেন তিনি। জনগণের অর্থের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই প্রশংসনীয় নীতি নিঃসন্দেহে দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচজ




















