রামিছা হত্যা: ১৯ দিনেই মৃত্যুদণ্ডের রায়, সংসদে আইনমন্ত্রীর বিবৃতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিছাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মূল আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন করে ভিকটিমের পরিবারের ‘আস্থার জায়গা’ ফিরিয়ে দিতে পেরেছে সরকার— জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিছা ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এই ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী দুইজন মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।’
ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তিনিসহ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঐদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারি ছিল— এদেশে এ ধরনের ঘটনার বিচার হবে না, তাই তিনি বিচার চান না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, আমরা এই ঘটনার বিচার করতে বদ্ধপরিকর।’
দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান, ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে ঈদের আগে দুপুর ১২টায় পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে এবং বিকেল ৪টার মধ্যেই তা সিএমএম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ১ থেকে ১৫ জুন নিম্ন আদালতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকলেও প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়।
এমনকি আসামিপক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোনো আইনজীবী নিয়োগ না দেওয়ায় ২৪ তারিখেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাদের জন্য ‘স্টেট ডিফেন্স লয়ার’ নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানান মন্ত্রী।
যেভাবে এগোলো বিচারকাজ:
সংসদে দেওয়া আইনমন্ত্রীর তথ্যমতে, ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন আদালত খুললেই এ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষীর দিন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর ৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন (রোববার) রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আদালত সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণ আলোচনা করে ৪১ মিনিট ধরে তার পর্যালোচনা এবং আদেশ ঘোষণা করেছেন। আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, রামিছা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামি সোহেল এবং তার সহযোগী তার স্ত্রীকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’
এ সময় চীনা নেতা মাও সে তুং-এর একটি ঐতিহাসিক উক্তি— ‘কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী, কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মতো হালকা’ উদ্ধৃত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রামিছা হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। আর যদি আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মতো হালকা হিসেবে আসবে।’
রামিছার বাবা এ বিচারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সেদিন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন— রামিছার বাবা বিচার চান না, এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? আমরা বলেছিলাম, এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজকে আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। এটাই গোটা জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ছিল।
আ.দৈ/আরএস/এএইচএইচ




















