ডিএনসিসিতে মশা নিয়ন্ত্রণে ৩ মাসের কর্মসূচিতে জনসচেতনা বাড়বে: প্রশাসক
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের সাথে জনসচেতনতা প্রয়োজন : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ এবং হাসপাতালে চিকিৎসকদের চেষ্টাই যথেষ্ট নয়, বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম .এ . মুহিত। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের এক্ষেত্রে জনসচেতনতা প্রয়োজন রয়েছে। কারণ জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন করতে হলে জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) সহ সব সিটি কর্পোরেশনের তিন মাসের কর্মসচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত ও সচেতন করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আজ শনিবার (০৬ জুন) ডিএনসিসির উদ্যোগে আয়োজিত র্যালীর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম .এ . মুহিত এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান এ কথা জানান ।
ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, আজ ঢাকা উত্তর সিটির উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টানা তিন মাসের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতায় তিন মাসের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডিএনসিসিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
আজ ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিলটন বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ০৩ মাসব্যাপী মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করা হচ্ছে।
হাম রোগের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনসহ সব সিটি কর্পোরেশনের জনগণকে সম্পৃক্ততার করার পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতায় দ্রুত ২ কোটি শিশুকে হামের টিকা দান কর্মসূচি যেমন সফল হয়েছে। তেমনি আজকের সমাবেশ থেকে যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে ,সবাই যদি সচেতনভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিজেরা দায়িত্ববান হলে সফলতা পাওয়াবে। প্রতিবেশী বন্ধু বান্ধব আত্মীয়- স্বজনকে সচেতন করে নিজের স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে তাহলে ডেঙ্গুর প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

তিনি বলেন ,জনগণের সুস্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং এই কর্মসূচিতে জনগণের সম্পৃক্ততা সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন , একটি জাতি তখনই উন্নত জাতি হবে , যখন জনগণের কাছে সফলতা, উন্নয়ন ও সুস্বাস্থ্যের সুফল পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান , ঢাকা উত্তর সিটির নেতৃত্বে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগামী তিন মাসের যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে জনগণকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম প্রতিনিয়ত চলছে এবং এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সোসাইটির দাবি প্রেক্ষিতে বলেন , সব সোসাইটিকে সরকার সহযোগিতা করবে, যাতে তার সোসাইটির এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে এবং তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে জনগণকে ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিবে সরকার।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে তোলা হবে ,যাতে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায় ।
অনুষ্ঠানে, ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন , ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চারটি সোসাইটির সমন্বয়ে ও নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ঢাকা উত্তর সিটিতে বর্জ্য অপসারণে সফল হয়েছে । তেমনি সোসাইটির সমন্বয়ের মাধ্যমে নগরবাসী সহযোগিতায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও সিটি কর্পোরেশন সফল হবে বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে আগত সকলের উদ্দেশ্যে প্রশাসক বলেন, আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তারা যদি আত্মীয়-স্বজন ,বন্ধু-বান্ধব, পারা- মহল্লায় প্রতি পাঁচজন কবে এবং পরে আরো দশ জন করে এ কথা জানান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বিষয়ে সচেতন করে তোলেন তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বৃষ্টির পানি, বাসা বাড়িতে জমে থাকা পানিসহ যেকোন স্থানে জমে থাকা পানি নিজ নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রশাসক।
এ সময় তিনি জানান , উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে বাসা বাড়িতে ক্যাম্পিং করা হবে , বিভিন্ন সভা সমাবেশ করা হবে এবং প্রতি নিয়ত তিন মাসের কর্মসূচির আওতায় কার্যক্রম চলমান থাকবে |
ঢাকা উত্তর সিটিতে জনগণের জন্য দিনরাত ২৪ ঘন্টা সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে।| জনগণ যেকোনো সময় তাদের দাবি কৃত সেবা সিটি কর্পোরেশন এর কাছ থেকে পাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি ড. এস, এম, জিয়াউদ্দিন হায়দার , প্রধানমন্ত্রী গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী , ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।
উদ্বোধন শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালী গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক হতে শুরু হয়ে গুলশান -২ এ রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক এসে শেষ হয়। র্যালীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী , ডিএনসিসি প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সহকারী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা, গুলশান ও বনানী সোসাইটির নেতৃবৃন্দসহ ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন ।
আ. দৈ./কাশেম




















