অটোমোবাইল সেবাখাতে ১৭ বছরে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেড
এক ছাদের নিচে বহু ব্র্যান্ডের গাড়ি সার্ভিসিংয়ে গড়ে তুলেছে নিজস্ব অবস্থান
বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অটোমোবাইল রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্ভিসিং খাতও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই পরিবর্তিত বাজারে বহুব্র্যান্ডের গাড়ির জন্য সমন্বিত সেবা দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেড। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের অটোমোবাইল সার্ভিস শিল্পে পরিচিত একটি নাম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার দাবি করছে।
অটোমোবাইল সেবাখাতে প্রতিষ্ঠানটি ১৭তম বছরে পদার্পন করেছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার তেজগাঁও নিজস্ব কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবাষির্কী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানান গত ১৬ বছরে দেশের অটোমোবাইল সার্ভিসে অভাবনীয় আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। এত অল্প দিনে দেশের শীর্ষ অটোমোবাইল ওয়ার্কসপে পরিণত হওয়ায় গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ।
শুরু থেকেই উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল গ্রাহকদের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। সেবা ও সর্বোচ্চ মান দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত ১৬ বছর সাফল্যের গল্প লিখেছে। এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা এবং প্রতিদিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি গাড়ির মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার, ডেন্টিং-পেইন্টিং, বডি ওয়ার্ক, স্পেয়ার পার্টস সাপোর্ট এবং ডিজিটাল ভেহিকেল ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন আধুনিক সেবা প্রদান করছে। মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কসপ লিমিটেডের ১৭ বছরে পদার্পন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জাহিদ করিম চৌধুরী বলেন, সাফল্য কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি চলমান যাত্রা। এই বিশ্বাসকে ধারণ করে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কসপ লিমিটেড পার করেছে গৌরবের ১৬ বছর। আস্থা, নিষ্ঠা ও সেবার এই পথচলায় পাশে থাকার জন্য সকল গ্রাহক, অংশীদার ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইছমাইল করিম চৌধুরী বলেন, সাফল্যের পেছনে থাকে মানুষ। আর আমাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছেন আমাদের গ্রাহক, সহকর্মী, অংশীদার ও শুভানুধ্যায়ীরা। আমি তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের আস্থাই আমাদের এগিয়ে চলার শক্তি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাছউদ করিম চৌধুরী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার মানুষের মধ্যে নিহিত। আমাদের কর্মী, গ্রাহক ও অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ সতেরো বছরের গৌরবময় মাইলফলকে পৌঁছেছে মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেড। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের গাড়ির সার্ভিসিং, মেরামত, ডায়াগনস্টিকস এবং প্রযুক্তিনির্ভর রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দিয়ে আসছে। বাজারে যখন অধিকাংশ ওয়ার্কশপ নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকেন্দ্রিক সেবায় সীমাবদ্ধ ছিল, তখন মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ একাধিক ব্র্যান্ডের যানবাহনের জন্য একই প্ল্যাটফর্মে সেবা দেওয়ার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বৃহৎ ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্স থেকে। সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি, এসইউভি, মাইক্রোবাস এবং করপোরেট ব্যবহারের যানবাহনের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করা হয়। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কম্পিউটারাইজড ডায়াগনস্টিকস এবং প্রশিক্ষিত জনবল তাদের সেবার মূল ভিত্তি।

বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের গাড়িতে ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট, সেন্সরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত সফটওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই বাস্তবতায় মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ নিজেদেরকে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণ মেইনটেন্যান্স, ইঞ্জিন মেরামত, বডি রিপেয়ার, ডেন্টিং-পেইন্টিং, এয়ার কন্ডিশনিং সার্ভিস, হুইল অ্যালাইনমেন্ট ও ব্যালেন্সিং, গাড়ির ডিটেইলিং এবং হাইব্রিড যানবাহনের জন্য বিশেষায়িত সেবা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে হাইব্রিড ও আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ির ব্যবহার বাড়ার ফলে এসব সেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে কয়েকশ’ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান এবং কারিগরি কর্মী যুক্ত রয়েছেন। দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার কথাও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের অটোমোবাইল শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
অটোমোবাইল সেবাখাতে গ্রাহকের আস্থা অর্জন একটি বড় বিষয়। গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি নির্ণয়, মানসম্মত যন্ত্রাংশ ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতার ওপরই নির্ভর করে একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম। মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ দাবি করছে, তারা করপোরেট গ্রাহক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সেবা ব্যবস্থাপনা মডেল গড়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজার আগামী বছরগুলোতে আরও সম্প্রসারিত হবে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, শহরাঞ্চলে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার এবং করপোরেট বহরে গাড়ির সংখ্যা বাড়ার ফলে দক্ষ সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও বাড়বে। এই বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি সেবার মান, প্রযুক্তি এবং গ্রাহকসেবার ওপর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।
এমন বাস্তবতায় মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেড নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মানের সেবা এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে অটোমোবাইল আফটার-সেলস সার্ভিস খাতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব। দেশের অটোমোবাইল খাত যখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং বহুমাত্রিক সেবার সমন্বয়ে নতুন ধরনের ব্যবসায়িক মডেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে সেবার মান ধরে রাখা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ক্রমবর্ধমান গ্রাহক প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতার ওপর। তবে এটুকু স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের অটোমোবাইল সেবাখাতের বিকাশের আলোচনায় মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ লিমিটেড ইতোমধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে।
আ.দৈ/আরএস




















