প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফোন লাইনের তার চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যবহৃত বিশেষ টেলিফোনে সংযোগ না পাওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, টেলিফোন লাইনের প্রয়োজনীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ফোনটি অচল হয়ে পড়ে। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তারা প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক সরকারি সংস্থা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ টেলিফোন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার অংশ। উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানে এটি ব্যবহৃত হয়। তাই এমন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচিবালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং নিরাপত্তা বলয় ভেঙে প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার দিন সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিশেষ টেলিফোনটি অচল অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা কাজ শুরু করেন এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেলে সংযোগ সচল করতে সক্ষম হন। তবে কী কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো ও নতুন ভবনের মধ্যকার মূল্যবান তামার তারের বিভিন্ন অংশ কাটা ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু স্থানে তার সম্পূর্ণ উধাও ছিল। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের টেলিফোন সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
চিঠিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নজরদারি ক্যামেরার চিত্র পর্যালোচনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে সচিবালয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, বর্তমানে সচিবালয়ের নিরাপত্তা আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি।
গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আ.দৈ/আরএস




















