নির্বিঘ্নে ঢাকায় ফিরছে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ সোমবার (১ জুন) সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত এবং ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। কর্মজীবী মানুষ রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় ঢাকা নগরীর সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ এবং গণপরিবহণের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত ৩১ মে থেকে শুরু করে আজ ১ জুন পর্যন্ত ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও প্রবেশপথগুলোতে যানবাহনের এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার (১ জুন) রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলা মোটর, মহাখালী ও বিজয় সরণিসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
প্রিয়জনের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদের এক সপ্তাহ ছুটি শেষে সোমবার (১লা জুন) থেকে সরকারি ও অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলেছে। তবে ফিরতি যাত্রায় মানুষের ভিড় তুলনামূলক কম ও নির্বিঘ্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
অফিস খোলার কারণে আগের দিন মানুষের ঢাকায় ফেরার তাড়া দেখা যায়। গতকাল ভোর থেকেই পদ্মা সেতু দিয়ে আসতে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। তবে সেতুর কোথাও যানজট বা ভোগান্তির তথ্য মেলেনি।
সেতু দিয়ে দূরপাল্লার গণপরিবহন, ব্যক্তিগত পরিবহন ও মোটরসাইকেলের বিড়ম্বনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল দেখা গেছে। রোববার ও সোমবার যশোর-নড়াইল, ঝিনাইদাহ, কুষ্টিয়া থেকে আসা যাত্রীবাহী গণপরিবহন বেশ ক’জন যাত্রী বলেন, এবার ঈদে বাড়ি যেতেও যেমন ভোগান্তি হয়নি, ফিরতেও হয়নি।
এ ছাড়া সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথ গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের সংখ্যা বেশি থাকলে, তা অতিরিক্ত ভিড় বা ভোগান্তির চিত্র মেলেনি।
ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে, একের পর এক ট্রেনে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। কোনো কোনো ট্রেন কিছুটা বিলম্বে কমলাপুর এলেও ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় ও ভোগান্তি হয়নি বলছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নেত্রকোনা, জামালপুর, ময়মনসিংহ থেকে এ অঞ্চলের যে ট্রেনগুলো ঢাকায় এসেছে, সেই ট্রেনগুলো অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়েছে। ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে আসা একাধিক যাত্রী কমলাপুর স্টেশনে জানান, ঠিক সময়ে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেন ছেড়েছিল। তবে ঢাকা আসতে ঘন্টা খানেকের বেশি দেরি হয়। তবে বাড়তি ভিড় বা ভোগান্তি হয়নি।
দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে সদরঘাটে আসা লঞ্চগুলোতে একেবারেই স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ যাত্রা হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রীরা। পদ্মা সেতুর কারণে লঞ্চে নেই আগের মতো ভিড়। ভোলা থেকে লঞ্চে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা বলেন, সোমবার অফিস খোলা। এক দিন আগে লঞ্চে এলেও ভিড় বা টিকিট কাটায় ঝামেলা নেই।
এদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে গতকাল (৩১ মে) সকাল থেকেই ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাট কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। যানজট ও পারাপারের সময় কমাতে বাসের যাত্রীদের আগে নামিয়ে আলাদা করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং খালি বাস ফেরিতে তোলা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌপুলিশ এবং ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৫টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করলেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় সড়ক এখনো অনেকটাই ফাঁকা। বিভিন্ন মোড়ে যানবাহন থামতে হলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট চোখে পড়েনি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ছাউনিতেও মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। অনেক বাস তুলনামূলক কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ এখনো পুরোপুরি ঢাকায় ফেরেনি।
আ.দৈ/আরএস




















