জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়ঃ তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইস্যুতে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই সরকারের একমাত্র কাজ নয়, সরকারের কাজ হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে সুশাসন বজায় রাখা।
আপনারা বোধহয় জানেন যে, জ্বালানি সংকট যেদিন থেকে শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই যারা আমদানিনির্ভর জ্বালানিভিত্তিক দেশ, তারা সকলেই কিন্তু আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক সংকটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিলিয়ে দাম বাড়িয়ে বাড়িয়ে চলছে। নিশ্চয়ই এ তথ্য আপনাদের সকলের জানা আছে।
এবং এই তথ্য সকলের জানা আছে যে, দীর্ঘদিন আমরা অন্যরা সকলে দাম বাড়ালেও আমাদের সরকার কিন্তু দীর্ঘদিন দামকে পুরোনো জায়গাতে ধরে রেখেছে, যদিও আমরা আমদানিনির্ভর একটি দেশ। সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে জ্বালানি আমদানি করে চলতে হয়। এবং আমাদের বিদ্যুৎ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী তারা নিয়মিতই এ বিষয়ে জাতিকে অবহিত করেছেন, পরিসংখ্যান দিয়েছেন। কিন্তু এটা তো সত্য, আমদানি করেই যদি চলতে হয় তাহলে তো আমাকে আমার আমদানি ক্ষমতার ওপরে ভর করেই চলতে হবে। তো অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাহেবের নেতৃত্বে একটা পরামর্শ কমিটি করেছে। যেই পরামর্শ কমিটির পরামর্শে সরকার চলছে।
জ্বালানি তেলের সংকট এখনো কাটেনি জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে আমদানি করেই চলতে হবে। এই সব বিষয়টা মাথায় রেখেই সরকারকে পরিচালনা করতে হয়। জনতুষ্টিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটাই কিন্তু সরকারের একমাত্র কাজ নয়। সরকারের কাজ হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে সুশাসন বজায় রাখা।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পালন করা, পবিত্র ঈদুল ফিতরের অনুষ্ঠান করা এবং গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করা এবং তারপরে এটা। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যতটুকু সংবাদ সর্বত্রই একটা স্বতঃস্ফূর্ততার ছাপ পড়েছে। উল্লেখযোগ্য কোনো তেমন কোনো নেতিবাচক কোনো কিছু তো কানে আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদপত্রের সম্পাদকবৃন্দরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। সংবাদপত্রের মালিকরা দেখা করেছেন। সবাই গিয়ে বলেছেন যে, এই প্রথম তারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সাংবাদিকতা করেছেন এবং কোথাও কোনো মহল থেকে, সরকারি মহল থেকে কোনো ধরনের কোনো চাপ বা কোনো ধরনের কোনো কিছু করা হয়নি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আরো বলেন, আর ফ্যাসিবাদ-উত্তর পরিস্থিতিতে যে ধরনের মামলা-মোকদ্দমা একটা ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে, এটার অনেকটাই ক্ষোভ-বিক্ষোভ থেকেও আসছে। আর ভিকটিমরা তো স্বাভাবিক করবেই। কিন্তু এই মামলাগুলি কতটা গোছানো, কতটা অগোছালো, নতুন সরকার হিসেবে আমাদেরকে সেটা দেখতে হচ্ছে।
সেক্ষেত্রেও আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদেরকে সাক্ষাৎ-এর সময় তিনি বলেছেন যে, সুনির্দিষ্ট অপরাধ ছাড়া কোনো মিথ্যা অভিযোগে কাউকে হয়রানির মধ্যে আমরা পড়তে দিব না। সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা অভিযোগ যাই থাক, তা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এগিয়ে চলবে তার প্রক্রিয়া।
আদ দ্বীন হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আমি যতটুকু শুনলাম, তাতে বোঝাই যায় যে ওই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। যদি আপনার বক্তব্য সত্য হয়ে থাকে, তবে আমি আরও বিস্তারিত খবর নেব। একইসঙ্গে এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার যে গণমাধ্যমের কাজই হচ্ছে সবকিছুকে জনগণের সামনে ট্রান্সপারেন্ট করে তুলে ধরা।
এবং সেই কাজ করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করাই হচ্ছে রাষ্ট্র এবং সমাজের সকলের দায়িত্ব। এবং বিশেষ করে আমি মনে করি যে আপনার যারা যারা টেলিভিশন সাংবাদিক, আপনারা তো একদম সরাসরি দেখাচ্ছেন। তাহলে এখানে তথ্য বিকৃত করার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, এই সরকার, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার জবাবদিহিতার সংস্কৃতির কথা বলেছেন। আমরা সেই আলোকেই এই ধরনের ঘটনাগুলিকে বিশ্লেষণ করি, বিচার করি এবং মূল্যায়ন করি।
আ.দৈ/আরএস




















