রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে ঈদযাত্রা
‎নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:৩০ পিএম   (ভিজিট : ২৯)
X

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরছে মানুষ। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহ অভিমুখী প্রতিটি ট্রেনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ট্রেনগুলোর ইঞ্জিন, ছাদ, ইঞ্জিন বগির হাতল ও দুই বগির সংযোগস্থল-সবখানেই মানুষ আর মানুষ। বাদ যায়নি আন্তঃনগর ট্রেনগুলোও। দ্রুতগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদেও দেখা গেছে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।

জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি কলকারখানায় চলছে ঈদের ছুটি। গতকাল বিকেল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। সোমবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ময়মনসিংহ অভিমুখে জামালপুর কমিউটার, যমুনা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ও ভাওয়াল মেইল শ্রীপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে।

আজ সকাল ছয়টার পর থেকে সকাল এগারোটা পর্যন্ত ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ময়মনসিংহ অভিমুখী জারিয়াগামী বলাকা এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জগামী দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো শ্রীপুর ছেড়ে গন্তব্যের দিকে গেছে।

প্রতিটি ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ট্রেনগুলোর ইঞ্জিন, ছাদ, ইঞ্জিন বগির হাতল ও দুই বগির সংযোগস্থল-সবখানেই মানুষ আর মানুষ। বাদ যায়নি আন্তঃনগর ট্রেনগুলোও। দ্রুতগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদেও দেখা গেছে যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো কমলাপুর, বিমানবন্দর, টঙ্গী ও গাজীপুর থেকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে শ্রীপুরে আসে।

শিল্পসমৃদ্ধ শ্রীপুরে বিভিন্ন জেলার লাখ লাখ মানুষ বাস করে। ঈদের ছুটিতে নির্বিঘ্ন, নিরাপদ, কম ভাড়া ও দ্রুত বাড়ি ফিরতে ট্রেনে থাকে সীমাহীন ভিড়।

শ্রীপুর স্টেশনে অপেক্ষা করতে থাকে শত শত যাত্রী। ট্রেন আসার পর যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠতে শুরু করে। কেউ জানালা দিয়ে, কেউবা মই বেয়ে ছাদে ওঠেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ওঠেন দুই বগির মাঝখানে। অনেকের পক্ষে সকাল থেকে অপেক্ষা করেও ট্রেনে ওঠা সম্ভব হয়নি।

জামালপুরের যাত্রী শাহানজ বেগম জানান, তিনি শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাবেন। শ্রীপুর স্টেশনে এসেছিলেন ট্রেনে নিরাপদে যেতে। কিন্তু ভিড়ের কারণে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন যেতে হবে বিকল্প পথে।

ময়মনসিংহের যাত্রী হাসান মিয়া জানান, বাসে ভাড়া অনেক বেশি। তাই ট্রেনে যেতে শ্রীপুর স্টেশনে আসেন। মহুয়া কমিউটারে দশ টাকা দিয়ে মই বেয়ে ছাদে উঠে বাড়ি যাচ্ছেন।

জামালপুর কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে বসা আবুল হাশেম বলেন, ‘তিনি বয়স্ক মানুষ। ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে পারেননি। নিরুপায় হয়ে ইঞ্জিনে উঠেছেন।’

স্টেশনে অপেক্ষমাণ হোসনে আরা বলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে যাবেন। বাসভাড়া বেশি, সুবিধামতো গাড়িও পাননি। তাই শ্রীপুর স্টেশনে আসেন ট্রেনে যেতে। চোখের সামনে তিনটি ট্রেন চলে গেলেও ভিড়ের কারণে উঠতে পারেননি।’

শ্রীপুরে কর্মরত স্টেশন মাস্টার শামিম আহাম্মদ জানান, গতকাল বিকেল থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আজ সকাল থেকে ময়মনসিংহ অভিমুখী প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ছিল ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি। কয়েক গুণ বেশি যাত্রী নিয়ে যথাসময়ে ট্রেনগুলো শ্রীপুর ছেড়ে গেছে। তিনি যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা কামনা করেন।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝