সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এবার ভ্যাট নিবন্ধনে বার্ষিক ২০ লাখ টাকা টার্নওভারে বাধ্যতামূলক হচ্ছে
নিজেস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম   (ভিজিট : ৫২)
X

সরকার এবার ভ্যাটের আওতা বাড়াতে বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ কমছে। বর্তমানে বার্ষিক ৩০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভারের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেটে ভ্যাট নিবন্ধনে বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা কমিয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব থাকছে। 

এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হয়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে। মূলত থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ কমানো হচ্ছে। এনবিআরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, দেশের সব অঞ্চলে ব্যবসার ধরন এক নয়। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা সার্কেলে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ভ্যাটের পরিমাণের একটি স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। ওই স্ট্যান্ডার্ডের ভিত্তিতে নতুন নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চার কিংবা ছয় মাস অন্তর অথবা বছরে একবার ভ্যাট জমা দিলেই হবে। এক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক কিংবা এমএফএসের মাধ্যমে এ-চালানে যে ভ্যাট জমা দেবে, সেটিই ভ্যাটের রিটার্ন হিসাবে বিবেচনা করা হবে। নতুন নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানোর জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আট লাখের মতো। আগামী অর্থবছরে এ সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রাজস্ব আদায়কারী সংস্থাটি। এজন্য বেশকিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে যেকোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে ভ্যাট আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিন) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে জমি, গাড়ির নিবন্ধনে বিন থাকতে হবে। পাশাপাশি বিন ছাড়া মিলবে না ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির মতো পরিষেবা।

এদিকে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সিস্টেমে পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের জন্যও বিন থাকতে হবে। কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে এসব মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে গ্রাহক বা ভোক্তা তাদের বিল, সেবা কিংবা পণ্যের মূল্য পরিশোধ করে থাকেন। 

এজন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, এমক্যাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি) ই-ভ্যাট সিস্টেমের এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) থাকবে। এর মাধ্যমে কোন বিনের বিপরীতে কত টাকা ভ্যাট হিসাবে জমা হচ্ছে, তা বের করা সম্ভব হবে। সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে একবার ভ্যাটের রিটার্ন জমা দিতে হয়। কিন্তু এমএফএসের পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

আগামী অর্থবছরে যেসব নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আসবে, তাদের জন্য ফের ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে এনবিআর। প্যাকেজ ভ্যাটের পরিবর্তে এটির নামকরণ করা হচ্ছে ‘সুনির্দিষ্ট ভ্যাট’। অঞ্চলভেদে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হিসাব-নিকাশের জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে এবং সহজভাবে কর আদায়ের উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে তাদের বার্ষিক বিক্রির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হারে বার্ষিক বা মাসিক কিস্তিতে কর পরিশোধ করতে পারতেন। এটিকেই মূলত ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভ্যাট হিসাবে অভিহিত করতেন। এনবিআর এটিকে মূলত টার্নওভার কর হিসেবে গণ্য করে। 

পরে ২০১২ সালে প্রণীত নতুন ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর আওতায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধাজনক স্ল্যাব ও টার্নওভার করের ব্যবস্থা রাখা হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যাকেজ ভ্যাট বলে কোনো ব্যবস্থা আর বিদ্যমান নেই। তবে যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের কোনো ভ্যাট আদায় হচ্ছে না, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ের কৌশল হিসেবে ফের প্যাকেজ ভ্যাট চালু করা হচ্ছে।

সাধারণত নিবন্ধনকারী ভ্যাট প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। এটিকে কর-মেয়াদ বলা হয়। কিন্তু নতুন নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের জন্য কর মেয়াদে শিথিলতা থাকবে। অপরদিকে প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

এর কারণ হিসেবে এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, তাদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা বা ছাড় থাকছে। সব ক্ষেত্রে ছাড় দিতে গেলে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। রাজস্ব আহরণে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে অগ্রিম ভ্যাট নেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে।

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থ-বাণিজ্য- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝